সুইজারল্যান্ড-বসনিয়ার ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল উৎসব

৮০ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। এরপরই গোল উৎসবে মাতে সুইজারল্যান্ড।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বসনিয়া-হারজেগোভিনার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড
বসনিয়া-হারজেগোভিনার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড |সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপ বি’র ম্যাচে সুইজার‌ল্যান্ড ও বসনিয়া-হারজেগোভিনার ম্যাচ প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকার পর শেষের দিকে অনেকটা গোল উৎসবে পরিণত হয়। শেষ ২৩ মিনিটে ৫ গোল দেয় দুই পক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে লাল কার্ড দেখে বসনিয়ার একজনকে মাঠ ছাড়তে হয়। আর এ সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগায় সুইজারল্যান্ড। প্রতিপক্ষকে ৪ গোল দিয়ে বড় ধরনের জয় তুলে নেয় তারা।

ম্যাচের ৭৩ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ০-০। তারপর হলো একের পর এক গোল। ৮০ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। এরপরই গোল উৎসবে মাতে সুইজারল্যান্ড।

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় ছিল। সুইজারল্যান্ড বলের দখলে অনেক এগিয়ে ছিল। তবে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধেই মূল লড়াইটা হয়। ৭৪ মিনিট জোহান মানজাম্বির গোলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। বদলি হিসেবে নামা দুই খেলোয়াড়ের দারুণ সমন্বয়ে অবশেষে ম্যাচের জট খুলে সুইসরা।

ভার্গাস একের পর এক ক্রস করার চেষ্টা করেন, যার কয়েকটি বসনিয়ার ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করে দেয়। তবে তার পরের ক্রসটি ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে পারেনি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। বলটি পেয়ে যান মানজাম্বি, আর কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দুর্দান্ত এক ভলিতে জোরালো শট নিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।

৮০ মিনিটে আরো বিপদে পড়ে বসনিয়া। এম্বোলোর গতির সাথে পেরে উঠতে না পেরে মুহারেমোভিচ তাকে থামাতে ফাউল করে বসেন। গোলের পথে থাকা এম্বোলোর সামনে তখন শুধু গোলরক্ষক ভাসিলজই ছিলেন, আর মুহারেমোভিচ ছিলেন শেষ ডিফেন্ডার। ফলে নিয়ম অনুযায়ী রেফারি তাকে সরাসরি মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।

লাল কার্ড দেখে মুহারেমোভিচ মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় বসনিয়া। সুযোগ নিতে বেশি দেরি করেনি সুইজারল্যান্ড। ৮৪ মিনিটে দারুণ ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ভার্গাস বল পাঠিয়ে দেন গোলের নিচের ডান কোণে (২-০)।

আবারো গোলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মানজাম্বি। তিনি এম্বোলোর কাছে বল দেন, এরপর এম্বোলো দারুণভাবে বল এগিয়ে দেন ভার্গাসের দিকে। ভার্গাস কোনো ভুল না করে ১২ গজ দূর থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান।

ছয় মিনিট পরই (৯০ মিনিটে) সুইজারল্যান্ড ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। সুইস অধিনায়ক জাকা দারুণ একটি বল বাড়িয়ে দেন ভার্গাসের দিকে। ভার্গাস এরপর বলটি কাটব্যাক করে মানজাম্বির কাছে পাঠান। মানজাম্বি কোনো ভুল না করে দুর্দান্ত সাইড-ফুট ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন।

ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে দুর্দান্ত ভলিতে ব্যবধান কমায় বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র কয়েক মুহূর্ত পরই মাহমিচ দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে দেন। তার নিখুঁত শটটি গোলরক্ষক কোবেলের নাগালের বাইরে দিয়ে সরাসরি জালে ঢুকে যায় (৩-১)।

শেষ সময়ে পেনাল্টিতে আরো একটি গোল পায় সুইজারল্যান্ড। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা বলটি ভালোভাবে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বক্সের ভেতরে একটি আলগা বল দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন সো। কিন্তু ঠিক সেই সময় মেমিচ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ফেলে দেন। রেফারি সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি—সাথে সাথে পেনাল্টির নির্দেশ দেন! গোল করেন গ্রানিথ জাকা (৪-১)।