‘প্রিয় লিও,
তোমাকে একটি চিঠি লিখেছি। কারণ, আমি জানি আজ তোমার জন্মদিন। আশা করি, এটি তোমার কাছে পৌঁছাবে। দিনটি শেষ হওয়ার আগে তোমাকে জানাতে চেয়েছিলাম যে, তুমি আমার কাছে কতখানি প্রিয়। যখন আমি তোমাকে খেলতে দেখি, মনে হয় তুমি আর বল এক হয়ে গেছো। এটি পুরোপুরি এক জাদুকরী ব্যাপার। তোমার খেলার চেয়ে তোমার ব্যক্তিত্বকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। তুমি সবসময় সতীর্থদের সাহায্য করো এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল ছেড়ে দাও না।’
এই কথাগুলো আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলা আট বছর বয়সী এক খুদে মেসি ভক্ত মানু লিটউই’র। গত ২৪ জুন মেসির ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে একটি জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা হিসেবে এই চিঠি লিখেছিল। আবেগঘন খুদে ভক্তের এই চিঠি শুধু মেসির কাছে নয়; বরং পৌঁছে গেছে পুরো বিশ্বের কাছে।
আর্জেন্টিনার টেলিভিশন চ্যানেল ওল্গার ‘সিরি আ ইনক্রেডিবল’-তে নিজের হাতে লেখা চিঠি নিয়ে হাজির হয়েছিল মানু। সেখানে সে নিজের প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির উদ্দেশে লেখা চিঠিটি পড়ে শোনায়।
চিঠিটি ভাইরাল হওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কের একটি বাণিজ্যিক অংশীদার প্রতিষ্ঠান মানুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। পরে অনুষ্ঠানে সঞ্চালক পাউলা চাভেস মানুর উদ্দেশে আরেকটি চিঠি পড়ে শোনান।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘আজ থেকে তুমি আর একা একা স্বপ্ন দেখবে না। পরের অধ্যায়টি লিখতে আমরা তোমাকে সাহায্য করতে চাই। আমাদের পুরো দলের পক্ষে থেকে আজই তোমাকে আর তোমার পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। যাতে তুমি তোমার জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা লুফে নিতে পারো।’
এতে ভাগ্য খুলে গেল মানুর। বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিবারের সাথে মাঠে বসে দেখার সুযোগ পাচ্ছে মানু। পাশাপাশি নিজের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—লিওনেল মেসির সাথে সরাসরি দেখা করার আশাও পূরণ হতে যাচ্ছে তার।
এবারের বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ৬ গোল করেছেন মেসি, যার মধ্যে আলজেরিয়ার বিপক্ষে রয়েছে একটি হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার দখলে।



