টরোন্টোতে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। তবে এই জয়টা নিছকই কোনো জয় নয়, ছিল শোককে শক্তি করে তোলার উপলক্ষ। পর্তুগাল এই ম্যাচটা খেলেছিল প্রয়াত সতীর্থ দিয়াগো জোতার জন্য।
ম্যাচ শেষে স্কোরলাইনকে ছাপিয়ে দেখা মেলে সেই হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত। শেষ বাঁশি বাজার পর অধিনায়ক রোনালদো গায়ে তুলে নেন জোতার ২১ নম্বর জার্সি। আকাশের দিকে তাকিয়ে নীরবে জানিয়ে দেন পরলোকগত সতীর্থের প্রতি শ্রদ্ধা। সেই আবেগঘন মুহূর্তে তার পাশে ছিলেন পুরো পর্তুগাল দল ও কোচ রবার্তো মার্তিনেস।
কেননা আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে, স্পেনের পশ্চিমাঞ্চলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দিয়োগো জোতা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভা। পর্তুগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল করা জোতার স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করেই মাঠে নেমেছিলেন রোনালদোরা।
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম ফক্সকে রোনালদো বলেন, ‘ম্যাচের আগেই আমরা জানতাম দিনটি কতটা বিশেষ। জীবনের এই অদ্ভুত কাকতালীয় বিষয়টা নিয়ে আমরা নিজেদের মাঝে কথা বলছিলাম। শুধু জয় নয়, যেভাবে জিতেছি সেটাও আমাদের কাছে অনেক বেশি অর্থবহ।’
স্পোর্ট টিভিকে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তার কণ্ঠে ছিল আবেগের ছোঁয়া। ‘আমরা জানি, জোতা আমাদের মাঝেই আছে। আজকের এই জয় শুধু তাকেই উৎসর্গ করার জন্য। এটাই ছিল তাকে সম্মান জানানোর সেরা উপায়।’
ম্যাচে প্রথমে ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তবে ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।
৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে গোল করে তিনি গড়েন বিশ্বকাপ নকআউট ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতার নতুন রেকর্ড। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যা তার তৃতীয় গোল।
নাটকের শেষ দৃশ্য আসে যোগ করা সময়ে। ৯০+৪ মিনিটে গনসালো রামোসের জয়সূচক গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে পর্তুগাল। তবে এখানেই শেষ নয়; শেষ মুহূর্তে ইওস্কো গাভার্দিওলের শটে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরায়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিএআরের সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে রোনালদোর দল। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১টায় মাঠে নামবে দুই পরাশক্তি।



