চেলসিকে কোটি পাউন্ড জরিমানা; ঝুলছে দলবদলে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা

২০২২ সালে আব্রামোভিচের কাছ থেকে মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো ক্লাবের পুরোনো নথিপত্র পর্যালোচনা করে এসব আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
চেলসি
চেলসি |নয়া দিগন্ত অনলাইন

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বড় শাস্তির মুখে পড়েছে ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাব চেলসি। এজেন্ট ও মধ্যস্থতাকারীদের সাথে গোপন আর্থিক লেনদেন আর বিনিয়োগসংক্রান্ত একাধিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ক্লাবটিকে এক কোটি পাউন্ড জরিমানা করেছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।

পাশাপাশি দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছে। তবে সেটি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে এফএ।

সংস্থাটি জানায়, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশনের তদন্তে চেলসির বিরুদ্ধে আনা ৭৪টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমে ক্লাবটির ৬ পয়েন্ট কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আপিলের পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। পরিবর্তে বহাল রাখা হয় স্থগিত ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা।

এফএর তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ফুটবল এজেন্ট, মধ্যস্থতাকারী ও খেলোয়াড়দের চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষের অনৈতিক বিনিয়োগসংক্রান্ত নানা অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই ঘটেছে ক্লাবটির সাবেক মালিক রোমান আব্রামোভিচের আমলে, বিশেষ করে ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুমের মধ্যে।

শুনানির আগেই চেলসি ৭৪টি অনিয়মের কথা স্বীকার করে নেয়। এরপর স্বাধীন কমিশন এক কোটি পাউন্ড জরিমানা এবং ৬ পয়েন্ট কাটার সিদ্ধান্ত দিলেও আপিল বোর্ড পয়েন্ট কর্তনের শাস্তি বাতিল করে। তবে দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। এফএ জানিয়েছে, এই অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে।

২০২২ সালে আব্রামোভিচের কাছ থেকে মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো ক্লাবের পুরোনো নথিপত্র পর্যালোচনা করে এসব আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত করে। বিষয়টি গোপন না রেখে তারা স্বেচ্ছায় এফএ, প্রিমিয়ার লিগ এবং উয়েফার কাছে সব তথ্য তুলে দেয় এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করে।

শাস্তির পর এক বিবৃতিতে চেলসি জানায়, শুরু থেকেই তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সাথে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। তদন্তের স্বার্থে হাজার হাজার নথিপত্র স্বেচ্ছায় জমা দিয়েছে ক্লাবটি। একই বিষয়ে এর আগে উয়েফা ও প্রিমিয়ার লিগের সাথেও ইতিবাচক সমঝোতায় পৌঁছেছিল তারা।

যদিও আপাতত দলবদলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে স্থগিত এই শাস্তি কার্যকর হতে পারে। ফলে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এখন থেকে আরো সতর্ক থাকতে হবে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল ক্লাবটিকে।