অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের প্রচারণা এড়িয়ে চলেন এমবাপ্পে

এমবাপ্পে নিজে মুসলিম না হলেও ব্যক্তিগত নীতির কারণে তিনি সেই নিরপেক্ষ সংস্করণটিই গ্রহণ করেন। এর আগেও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে ছবি তোলার সময় স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের লোগো সচেতনভাবে আড়াল করেছিলেন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফাইল ছবি

মাঠে প্রতিপক্ষকে যেমন তিনি ছাড় দেন না মোটেও, মাঠের বাইরে তেমনি নিজের নীতি ও মূল্যবোধে কোনো ছাড় দেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়েও ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও নৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন বরাবরই।

এমবাপ্পের মা ফায়জা লামারি আলজেরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারের সন্তান, আর বাবা উইলফ্রেড এমবাপ্পে খ্রিষ্টান। পারিবারিকভাবে দুই ধর্মের প্রভাব থাকলেও এমবাপ্পে বাবার ধর্ম খ্রিষ্টধর্ম অনুসরণ করেন।

তবে খ্রিষ্টান হয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যালকোহল, জুয়া কিংবা ফাস্টফুড কোম্পানির বাণিজ্যিক প্রচারণা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। লাভজনক প্রস্তাব পেলেও এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ না করার নীতি বজায় রেখেছেন তিনি।

নিজেকে তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান এমবাপ্পে। তাই নিজের ইমেজ রাইটস ও বাণিজ্যিক চুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং ইতিবাচক বার্তা বহনকারী ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এই নীতির প্রতিফলন দেখা গেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচেও। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এমন একটি পুরস্কার গ্রহণ করেন, যেখানে অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের কোনো প্রচারণা ছিল না।

মূলত মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবার ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারের উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনে ফিফা। প্রচলিত অ্যালকোহল স্পন্সরের লোগোর পরিবর্তে তাদের জন্য ব্যবহার করা হয় নিরপেক্ষ নকশার ট্রফি ও ব্যাকড্রপ।

তবে এমবাপ্পে নিজে মুসলিম না হলেও ব্যক্তিগত নীতির কারণে তিনি সেই নিরপেক্ষ সংস্করণটিই গ্রহণ করেন। এর আগেও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে ছবি তোলার সময় স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের লোগো সচেতনভাবে আড়াল করেছিলেন তিনি।

সে সময় এ নিয়ে বিতর্কের মুখেও পড়তে হয়েছিল ফরাসি ফরোয়ার্ডকে। তবে এবার ফিফা নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি সমাধান করেছে।

উল্লেখ্য, গতরাতে মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ ছন্দে দেখা মেলে এমবাপ্পের। নিজে এক গোল করার পাশাপাশি গোল করান ওসমান দেম্বেলেকে দিয়েও। যার ফল স্বরূপ জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।