ন্যারে থেকে নেইমার : আবারো বিশ্বকাপে মুখোমুখি ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০১১ সালে লন্ডনে একটি প্রীতি ম্যাচ। যেখানে মাত্র তৃতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে নেইমার জোড়া গোল করেছিলেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডেভিড ন্যারে ও নেইমার
ডেভিড ন্যারে ও নেইমার |সংগৃহীত

ডেভিড ন্যারের বিখ্যাত গোল থেকে শুরু করে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ পর্যন্ত, ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ লড়াইগুলো গত শতাব্দীর শেষভাগে টুর্নামেন্টের এক পরিচিত অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। বুধবার দুই দল আবারো মুখোমুখি হচ্ছে গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ শেষ ম্যাচে।

মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য গ্রুপ ‘সি’-এর এই ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দেশের পঞ্চম সাক্ষাৎ, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি খেলা ম্যাচগুলোর একটি।

অবশ্য এককভাবে সবচেয়ে বেশি নয়। কারণ ব্রাজিল বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে সাতবার খেলেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৫৮ সালের ফাইনাল এবং ১৯৯৪ সালের সেমিফাইনাল।

এ ছাড়া আর্জেন্টিনা ও জার্মানিও বিশ্বকাপে সাতবার মুখোমুখি হয়েছে, যার তিনটি ছিল ফাইনাল।

১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে বিশ্বকাপে চারবার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড, এবং সবগুলোই ছিল গ্রুপ পর্বে। কারণ স্কটল্যান্ড কখনো প্রথম রাউন্ডের গন্ডি পেরোতে পারেনি।

১৯৮২ সালে সেভিলে ডেভিড ন্যারের গোলটি এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় গোল হয়ে আছে। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। বরং সক্রেটিস ও জিকোর নৈপুণ্যে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় পায়।

১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে কেনি ডালগিশের স্কটল্যান্ড জারগিনহোম রিভেলিনোর ব্রাজিলকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে রাখে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল ব্যবধানে বিদায় নিতে হয় স্কটদের।

১৯৯০ সালের ইতালিয়া বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তের একটি গোল ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। আর ১৯৯৮ সালে স্কটল্যান্ড রোনাল্ডো, রিভালডো, বেবেতোকে গোল করতে না দিলেও টম বযয়েডের আত্মঘাতী গোলে ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হেরে যায়।

এবার স্কটল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে চায়।

বোস্টনে হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে অভিযান শুরু করলেও পরে মরক্কোর কাছে একই ব্যবধানে হারে দলটি। তবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ড্র করলেই সম্ভবত সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে পরবর্তী পর্বে উঠে যাবে তারা। এমনকি হারলেও তিন পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেন্ড্রি বলেন, ব্রাজিলের অসাধারণ ইতিহাস রয়েছে, আর আমরা বুধবার সেই ধারাকে ব্যাহত করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, পরের রাউন্ডে উঠতে হলে এমন দলের বিপক্ষেই খেলতে চাই। এটা দারুণ এক ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটির আবহ কিছুটা ভিন্ন। তাদের লক্ষ্য শুধু জয় তুলে নিয়ে গ্রুপে সেরা অবস্থানে থেকে পরবর্তী পর্বে যাওয়া।

ব্রাজিল ও মরক্কো উভয়েরই চার পয়েন্ট রয়েছে। ফলে গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে ব্রাজিলের জয় প্রয়োজন।

এ ম্যাচেই হয়তো দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে ফিরতে পারেন নেইমার। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চোটের কারণে ২০২৩ এর অক্টোবরের পর আর জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে দলে ডাকলেও পরে ডান পায়ের পেশীতে আরেকটি চোট পান, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে এখন তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত।

দলের তারকা ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি বলেন, অনুশীলনে আমরা তার গুণগত মান দেখেছি। আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তার শারীরিক অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, মাঠে নামার জন্য তিনি কতটা মুখিয়ে আছেন। নেইমারকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০১১ সালে লন্ডনে একটি প্রীতি ম্যাচ। যেখানে মাত্র তৃতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে নেইমার জোড়া গোল করেছিলেন।