ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে কেপ ভার্দে, অপেক্ষায় স্পেন

বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা কেপ ভার্দে আজ রাতে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হবে। ফিফা র‌্যাঙ্কিং, অভিজ্ঞতা ও শক্তিমত্তায় স্পেন এগিয়ে থাকলেও, রূপকথার মতো বিশ্বকাপে ওঠা কেপ ভার্দে অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কেপ ভার্দে ফুটবল টিম
কেপ ভার্দে ফুটবল টিম |সংগৃহীত

ইতিহাস দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে কেপ ভার্দে, রোমাঞ্চকর এক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছোট্ট এই দেশটি। সবকিছু ঠিক থাকলে অপেক্ষা ফুরাচ্ছে আজ রাতেই। বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেক হচ্ছে তাদের।

আজ সোমবার রাত ১০টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা। অর্থাৎ প্রথম ম্যাচেই দিতে হচ্ছে কঠিন পরীক্ষ।

এ যেন এক অসম এক লড়াই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেখানে স্পেন নিয়মিত দাপট দেখায়, সেখানে কেপ ভার্দে একেবারেই অনাহূত এক অতিথি। তবে অঘটন বলেও একটা শব্দ আছে।

আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মানচিত্রে খুঁজলে সহজে চোখেই পড়ে না। জনসংখ্যা মোটে পৌনে ছয় লাখ। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের বিস্ময় হয়ে উঠেছে দেশটি।

এবারের বিশ্বকাপে চমকে দেয়া দল কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ছোট্ট এই আফ্রিকান দেশ। যার জনসংখ্যা ঢাকার একটি এলাকার চেয়েও কম!

আটলান্টিক পাড়ের ১০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশের ফুটবল ইতিহাস কিন্তু বেশ রোমাঞ্চকর। একটা সময় পর্যন্ত ফুটবলে তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

২০০০ সালেও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ছিল ১৮২তম। তবে গত দু’দশকে বদলে গেছে চিত্র। প্রবাসী ফুটবলারদের খুঁজে বের করে প্রতিনিধিত্ব করতে চলে এসেছে বিশ্বকাপে।

দলটির ডাক নাম ‘তুবারোস আজুইস’ বা ব্লু শার্কস (নীল হাঙর)। সেই হাঙরদের মতোই গতি আর আগ্রাসন দিয়ে ২০১৩ ও ২০১৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে চমক দেখায় তারা।

আর এবারের বিশ্বকাপে আসার গল্পটা তো রীতিমতো রূপকথা। বাছাইপর্বে আফ্রিকার কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে, একের পর এক ফেভারিটকে স্তব্ধ করে দিয়ে তারা টিকিট কেটেছে মূল পর্বের।

তাদের প্রস্তুতিও নজরকাড়া। সার্বিয়ার ও বারমুডার বিপক্ষে সমান ৩-০ গোলের জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় নিয়ে তারা বিশ্বকাপে এসেছে।

যদিও স্পেনের বিপক্ষে তাদের কাজ অত্যন্ত কঠিন, তবুও কেপ ভার্দে জানে বিশ্বকাপে এক ম্যাচই কখনো কখনো পুরো গল্প বদলে দিতে পারে। আর ওই যে বললাম, অঘটন বলেও একটা শব্দ আছে।

বিশ্বকাপে আসার পথে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, রূপকথা লিখতেই আটলান্টায় পা রেখেছে তারা। সেই সাথে হারানোর কিছু না থাকার এক অদ্ভুত স্বাধীনতা নিয়ে মাঠে নামবে আফ্রিকানরা।

শক্তিমত্তায় যদিও ঢের এগিয়ে স্পেন। তাদের ফিফা র‌্যাঙ্কিং যেখানে ২, সেখানে কেপ ভার্দের ৬৭। স্পেনিশ ফুটবলারদের বাজারমূল্য যেখানে আকাশছোঁয়া, সেখানে একঝাঁক অখ্যাত ফুটবলারই কেপ ভার্দের সম্বল।

অবশ্য ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ট্রফি জয়ের পর থেকে স্পেন বিশ্বকাপে আর কখনো শেষ ষোলোর গণ্ডি পার হতে পারেনি। কিন্তু এবার দলটিকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী।

লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্পেনের কোচ হিসেবে ৪২টি ম্যাচের মধ্যে হেরেছেন মাত্র দু’টিতে। টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্প্যানিশরা তাদের পাসিং ফুটবলের সাথে গতির এক চমৎকার মিশ্রণ ঘটিয়েছে।

যা এই ম্যাচে তো বটেই, বিশ্বকাপেই তাদের ফেভারিট করে তুলেছে। স্পেনের মাঝমাঠ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ডিফেন্স ভেঙে চুরমার করার ক্ষমতা রাখে। যদিও গ্রুপপর্ব কঠিন হচ্ছে তাদের জন্যও।

উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো জাঁদরেল প্রতিপক্ষ এই গ্রুপে থাকায় প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জিতে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার ছক কষছে স্প্যানিশ আর্মাডারা।

ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কখনোই একে অপরের মুখোমুখি হয়নি স্পেন ও কেপ ভার্দে। সেই অপেক্ষা ঘুচিয়ে আজ রাত ১০টায় মুখোমুখি হবে দু’দল।