বিশ্বকাপ যেন লিওনেল মেসির জন্য রেকর্ড লেখার এক অনন্ত মঞ্চ। একের পর এক কীর্তি গড়ে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য এক উচ্চতায়। প্রতিটি ম্যাচেই গড়ছেন নতুন ইতিহাস। এবার সেই ইতিহাসের খাতায় যুক্ত হলো আরেকটি সোনালি অধ্যায়। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতাও এখন লিওনেল মেসি। পেছনে ফেলেছেন স্বদেশী কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনাকেও।
মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। বিদায়ের শঙ্কা তখন ঘিরে ধরেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। ঠিক সেই মুহূর্তেই নেতৃত্বের আসল পরিচয় দেন মেসি।
প্রথমে নিজের নিখুঁত পাসে সতীর্থকে দিয়ে গোল করান, এরপর নিজেও জালের দেখা পান। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য এক জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
তবে এ ম্যাচটি শুধু নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জন্য নয়, মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের কারণেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে করা অ্যাসিস্টটি ছিল বিশ্বকাপে তার নবম। আর তাতেই ভেঙে যায় ম্যারাডোনার রেকর্ড।
এই ম্যাচের আগে সমান ৮টি করে অ্যাসিস্ট ছিল মেসি ও ম্যারাডোনার। এরপর গতরাতে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলে সহায়তা করেন মেসি। তার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
এরপর অবশ্য মেসি নিজেও একটা গোল করেন। সব মিলিয়ে ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন পাঁচ ম্যাচে ৮ গোলের সাথে করেছেন ২টি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ আর্জেন্টিনার ১০টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে মেসির অর্জনের তালিকা এখন সত্যিই ঈর্ষণীয়। সর্বোচ্চ গোলদাতা, সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার, সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া খেলোয়াড়- এসব রেকর্ডের সাথে যোগ হলো সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার মুকুটও।
সেই সাথে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আলবিসেলেস্তা অধিনায়ক। হয়তো গোল্ডেন বলও জিততে পারেন তিনি।



