বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে দু’দলেরই। তবে খালি হাতে দেশে ফিরতে চায় না কেউ। তাই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আজ শনিবার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।
মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। দু’দলের লক্ষ্য একটাই- ব্রোঞ্জ পদক জিতে আসর শেষ করা। সেই সাথে প্রাইজমানির পরিমাণ আরো কিছু বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ থাকছে উভয়ের সামনে।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয় ফ্রান্সের। এখন তৃতীয় স্থানেই চোখ তাদের।
দু’দলের লক্ষ্য যদিও সান্ত্বনার জয় নিয়ে দেশে ফেরার। তবে এর বাহিরে প্রথমবার বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জয়ের অপেক্ষায় ইংলিশরা, অন্যদিকে তৃতীয়বারের মতো তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য ফরাসিদের।
বিশ্বকাপে ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর কখনো শীর্ষ তিনে শেষ করতে পারেনি ইংল্যান্ড। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এর আগে তিনবার খেলেও (১৯৯০, ২০১৮ ও ২০২৬) জয়ের দেখা পায়নি তারা।
ফলে এবার জিততে পারলে ৬০ বছর পর বিশ্বকাপে পদক নিয়ে ঘরে ফেরার সুযোগ থাকবে থমাস টুখেলের দলের সামনে। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি।
১৯৫৮ সালে জাস্ট ফঁতেনের অবিশ্বাস্য ১৩ গোলের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানিকে ৬-৩ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল তারা। এরপর ১৯৮৬ সালেও বেলজিয়ামকে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিল ফরাসিরা।
এবার জিততে পারলে ইতিহাসে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ জিতবে ‘লে ব্লু’রা। তবে সবচেয়ে বেশি চারবার এই পুরস্কার জিতেছে জার্মানি। ব্রাজিল, ফ্রান্স, সুইডেন ও ক্রোয়েশিয়া জিতেছে দু’বার করে।
দু’দলের লড়াই ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম পুরোনো দ্বৈরথ। এখন পর্যন্ত ৩৩টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে তারা। সেখানে ইংল্যান্ডের জয় ১৭টি, ফ্রান্সের ৯টি, আর ড্র হয়েছে ৭টি।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে হিসাবটা আরো আকর্ষণীয়। বিশ্বমঞ্চে এর আগে তিনবারের দেখায় ইংল্যান্ড জিতেছে দু’বার ১৯৬৬ ও ১৯৮২ সালে। আর ফ্রান্স জিতেছে একবারই, গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে।
সেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিসের ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ হাসি হেসেছিল ফ্রান্স।
ফলে এবারের ম্যাচে সেই হারের প্রতিশোধ নেয়ারও সুযোগ ইংলিশদের সামনে।
তবে ফ্রান্স ছেড়ে কথা বলবে না। কেননা এই ম্যাচে তাদের সম্মানের সাথে আবেগও জড়িয়ে আছে। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের এটিই শেষ ম্যাচ। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ী এই কিংবদন্তিকে জয় দিয়ে বিদায় জানাতে মরিয়া কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।
ম্যাচটা বিশেষ এমবাপ্পের জন্যও। ফ্রান্স অধিনায়ক এখনো গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন। ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট নিয়ে লিওনেল মেসির সাথে লড়াই করছেন। অবশ্য মেসির অ্যাসিস্ট একটা বেশি।
এই ম্যাচে দারুণ কিছু করতে পারলে হয়তো মেসিকে পেছনেও ফেলে দিতে পারেন এমবাপ্পে। টানা দ্বিতীয়বার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেতে পারেন তিনি। যদিও স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে খেলছেন মেসি, সম্ভাবনা রয়েছে তারও।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ভরসা হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামদেরও সুযোগ গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নেয়ার। আসরে সমান ৬টি করে গোল করেছেন এই দুই ইংলিশ তারকা। আছে একটা করে অ্যাসিস্টও।
অর্থাৎ ব্যক্তিগত অর্জন, দলের সম্মান; ইতিহাস আর পরিসংখ্যান- সব মিলিয়ে ফাইনালের আগেই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি জমজমাট ইউরোপীয় লড়াই।



