বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের অপেক্ষা শেষ করল কানাডা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে কাতারকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে উত্তর আমেরিকার দলটি। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ইতিহাসগড়া জয় তুলে নেয় কানাডা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে কানাডা। বলের দখল ও সুযোগ সৃষ্টিতে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি ছাপিয়ে যায় তারা। এর ফলও আসে ১৬তম মিনিটে। জোনাথন ডেভিডের শট কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা ঠেকালেও ফিরতি বলে গোল করেন কাইল লারিন। তাতেই এগিয়ে যায় কানাডা।
২৯তম মিনিটে ডান পায়ের ভলি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথন ডেভিড। চার মিনিট পর আরো বড় ধাক্কা খায় কাতার। তেজন বুকানানকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারো গোল হজম করে কাতার। গোলমুখের জটলায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডেভিড। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কানাডা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ে কাতারের জন্য। ইসমায়েল কোনেয়ের ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে লাল কার্ড দেখেন আসিম মাদিবো। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। ওই ঘটনায় গুরুতর চোট পান কোনেয়ে। তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ায় কানাডা। ৬৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা নাথান সালিবা ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। গোলের পর তিনি আহত সতীর্থ কোনেয়ের ৮ নম্বর জার্সি উঁচিয়ে ধরে উদযাপন করেন।
৭৫তম মিনিটে কাতারের দুর্ভাগ্য আরো বাড়ে। মোহাম্মদ মানাই আত্মঘাতী গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-০। এরপর যোগ করা সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড। তার এই গোলেই ৬-০ ব্যবধানে বড় জয় নিশ্চিত হয় কানাডার।
পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেছিল কানাডা। তারা মোট ৩২টি শট নেয়, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে কাতার মাত্র দুটি শট নিতে সক্ষম হলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী বার্তাও দিল কানাডা। আর হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন জোনাথন ডেভিড, যিনি এই আসরে এক ম্যাচে তিন গোল করা আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসির সাথে তালিকায় জায়গা করে নিলেন।



