ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের অপেক্ষা নাকি নরওয়ের নতুন ইতিহাস?

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে, যেখানে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড লড়বে ৬০ বছরের শিরোপাখরা ঘোচাতে আর আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে নামবে প্রথমবারের মতো সেমি-ফাইনালে ওঠার নয়া ইতিহাস লিখতে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড |সংগৃহীত

এক দলের সামনে ছয় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ, অন্যদল চায় নয়া ইতিহাস লিখতে। একদলের চোখ শিরোপা পুনরুদ্ধারে, অন্যদল খেলছে ভয়ঢরহীন- এমন দুই ভিন্ন গল্প নিয়েই আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে।

বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায়। জয়ী দল সেমিফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোনো দলের সাথে।

১৯৬৬ সালের পর আর কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতেনি ইংল্যান্ড। প্রতি বিশ্বকাপেই তাই নতুন করে জেগে ওঠে পুরোনো স্বপ্ন- ‘শিরোপা ঘরে ফিরবে’। কিন্তু সেই স্বপ্ন বারবার থেমে গেছে নকআউট পর্বে।

২০১৮ সালে সেমি-ফাইনাল, ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল- প্রতিবারই শেষ হয়েছে হতাশায়। এবার টমাস টুখেলের অধীনে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টানতে চায় থ্রি লায়ন্সরা। সেই লক্ষ্যে টানা তৃতীয়বার উঠে এসেছে শেষ আটে।

তবে সেটা সহজ হবে না। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। সেই অভিযানের নেতৃত্বে আছেন আর্লিং হালান্ড।

আসরজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে নরওয়ে। চার ম্যাচে ৭ গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরমার হালান্ড। শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে দলকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন তিনি।

মজার বিষয়, নরওয়ের এই গোলমেশিনের জন্ম ইংল্যান্ডেই। শুধু তাই নয়, ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়ও কাটছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হালান্ডের জন্যও আলাদা আবেগের।

ম্যাচটি নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘এটি অবশ্যই আমার জন্য বিশেষ একটি ম্যাচ। আমার জন্ম ইংল্যান্ডে, আমি ইংল্যান্ডেই খেলি, ক্লাবের অনেক সতীর্থের বিপক্ষেও মাঠে নামতে হবে। ইংল্যান্ড ফেভারিট দলগুলোর একটি, তাই চাপও তাদের ওপরই বেশি থাকবে।’

শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা ও ফিল ফোডেনদের নিয়ে তাদের আক্রমণভাগ বেশ ধারাল।

আক্রমণভাগ ভালো হলেও রক্ষণ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন টুখেল। লাল কার্ডের কারণে জ্যারেল কোয়ানসাহ দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ, আর রিস জেমসও পুরোপুরি ফিট নন।

ইংল্যান্ড উইঙ্গার বুকায়ো সাকা বলেন, ‘আমরা আগেও এই পর্যায়ে এসেছি। কিন্তু নকআউটে অতীতের কোনো মূল্য নেই। যেদিন যে দল ভালো খেলবে, সেই দলই জিতবে। আমাদের পুরো মনোযোগ সেদিকেই।’

মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে ইংল্যান্ড। দু’দলের ১২টি মুখোমুখি ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছে ৭টি, নরওয়ের জয় মাত্র ২টি, আর ড্র হয়েছে ৩টি। তবে বড় কোনো টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে তারা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় জয় আসে ১৯৮১ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। অসলোতে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর ধারাভাষ্যকার বিয়র্গে লিলিয়েনের আবেগঘন মন্তব্য আজো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ধারাভাষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর ১৯৯৩ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও অসলোতে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিল নরওয়ে। তবে ইতিহাস নয়, বর্তমান ফর্মই নির্ধারণ করবে আজকের ম্যাচের ভাগ্য।

একদিকে ৬০ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠার স্বপ্নে উজ্জীবিত নরওয়ে। ফলে মঞ্চ প্রস্তুত আরেকটি রুদ্ধশ্বাস ফুটবল নাটকের।