ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড

‘৭৫ ও ৮৬ মিনিটে হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত দুই গোলে ইংল্যান্ড ডিআর কঙ্গোকে ২–১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় স্থান করে নিয়েছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গোল দিয়ে কেইনের উচ্ছ্বাস
গোল দিয়ে কেইনের উচ্ছ্বাস |সংগৃহীত

রূপকথা লেখার পথেই ছিল ডিআর কঙ্গো। ইতিহাসের দোরগোড়ায় প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিল তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে উঠার দৌড়ে এগিয়ে ছিল ৭৫ মিনিট পর্যন্ত। তবে পরের গল্পটুকু লিখেন হ্যারি কেইন।

মাত্র ১১ মিনিটে জোড়া গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হ্যারি কেইন। তাতে প্রাণ ফেরে ইংলিশ সমর্থকদের মনে। যা শেষ পর্যন্ত থ্রি লায়ন্সদের এনে দেয় ২-১ গোলের জয়। শেষ হয় ডিআর কঙ্গোর স্বপ্নযাত্রা।

বুধবার (১ জুলাই) আটলান্টায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গো। কাগজে-কলমে, শক্তিমত্তায় বা অভিজ্ঞতায় থ্রি লায়ন্সরা ঢের এগিয়ে থাকলেও শুরুতেই চমকে দেয় আফ্রিকান দেশটা।

ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ইংলিশদের স্তব্ধ করে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার পাস থেকে ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। এগিয়ে যায় ডিআর কঙ্গো।

পরিসংখ্যান তখন চোখ রাঙাতে থাকে। সেই ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির সাথে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ৬০ বছরেও প্রথমে গোল হজম করার পর আর জেতেনি ইংলিশরা।

ফলে মনে হচ্ছিল, এবারো হয়তো তেমন কিছুই হতে পারে। কেননা গোল পেয়ে আফ্রিকানরা আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। অন্যদিকে সুযোগ হাতছাড়া করতে থাকে ইংল্যান্ড।

২৮ মিনিটে জুড বেলিংহাম শূন্যে ভেসে আসা একটি ক্রস বাতাসে ভেসে লাফিয়ে উঠে হেডে গোলপোস্টের ডান দিকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্ত কঙ্গোর গোলকিপার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান।

বিরতির এমন প্রাচীর আরো কয়েকবারই হয়েছে ডিআর কঙ্গোর রক্ষণ। গোলরক্ষক এমপাসি যেন হয়ে উঠেন অতিমানবীয়।

অন্যদিকে তাদেরও দারুণ একটা সুযোগ হাতছাড়া হয় গোলপোস্টে বল লেগে। প্রথমার্ধ শেষ হয় তাই ১-০ গোলে।

বিরতির পরও দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসেনি। ৫৪ মিনিটে আবারো দুর্দান্ত এক সেভে ইংল্যান্ডকে গোল পেতে দেননি কঙ্গোর গোলকিপার এমপাসি। বারবার হতাশ হতে থাকে ইংলিশ সমর্কেরা।

তবে অবশেষে ৭৫ মিনিটে এসে কাটে খরা। ডিআর কঙ্গোর রক্ষণে ফাঁটল ধরাতে পারেন হ্যারি কেইন। গর্ডনের বাড়ানো বল হেডে জালে জড়ান তিনি। তাতে ম্যাচে ফেরে সমতা।

এরপর অবশ্য এগিয়ে যেতে সময় নেয়নি ইংল্যান্ড। এবার সেই গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে জোরাল শটে পাঠিয়ে দিয়েছেন জালে। স্কোর তখন ২-১।

এই গোলে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় পেলেকে ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। কেইনের মোট গোল এখন ১৩টি। আর এবারের আসরে পাঁচটি। তার চেয়ে বেশি কেবল লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের (ছয়টি)।

এরপর অবশ্য ডিআর কঙ্গো আর সমতায় ফেরার মতো কিছু করতে পারেনি। তাতেই জয় নিশ্চিত হয় ইংলিশদের। আগামী সোমবার ভোরে শেষ ষোলোর ম্যাচে লড়বে মেক্সিকোর বিপক্ষে লড়াই করবে ইংল্যান্ড।