যে বিশ্বকাপ ছিল স্বপ্ন পূরণের মঞ্চ, সেটিই এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছে হামিন্তন কাম্পাসের জীবনে। টুর্নামেন্ট থেকে কলম্বিয়ার বিদায়ের পর হত্যার হুমকিতে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন এই উইঙ্গার।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় তাই গোলশূন্য। আর এরপর টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া।
সেই ঘটনার পর থেকেই প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন কলম্বিয়ার এই ফুটবলার। নিরাপত্তা শঙ্কায় ইতোমধ্যে আত্মগোপনে গেছেন তিনি। আর তাতেই যেন ১৯৯৪ সালে আন্দ্রেস এসকোবার হত্যাকাণ্ডের দুঃসহ স্মৃতি ফিরে এলো।
সেবার যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। তিন দশক পর আবারো দেখা দিয়েছে তেমন কিছুর শঙ্কা।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দলের সাথে বোগোতাগামী বিমানে ওঠেননি কাম্পাস। এরপর থেকেই তার অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কোনো খেলোয়াড় বা তার পরিবারের সদস্যকে এ ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে না। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
কয়েক ঘণ্টার নীরবতার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক বার্তা দেন কাম্পাস। তিনি লেখেন, ‘ছোটবেলা থেকেই কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখেছি। দেশের জন্য গোল করার স্বপ্নও ছিল। আমরা যে আনন্দ দেশবাসীকে দিতে চেয়েছিলাম, তা দিতে না পারায় আমি সত্যিই দুঃখিত। কিন্তু এই জার্সির প্রতি আমার ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর নিবেদন কখনোই কম ছিল না। দেশের জন্য আবারো হাজারবার মাঠে নামতে আমি প্রস্তুত।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার হয়ে একটি গোলও করেছিলেন কাম্পাস। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে সেই গোল দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ ষোলোর একটি মিস করা সুযোগই এখন তাকে ভয়ঙ্কর এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।



