কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিটা প্রায় ফিরিয়ে আনছিল সৌদি আরব। সেবার যেমন নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল তারা, এবারও ছিল সেই পথেই।
উরুগুয়ের বিপক্ষে আজ মিয়ামি স্টেডিয়ামে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত লিড ধরেও রাখে তারা। তবে এবার শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি মরুর দেশটি। ১-১ সমতায় শেষ হয় লড়াই।
দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এই ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই ফেভারিট হিসেবে মাঠে। যার প্রভাব দেখা মেলে প্রথম আধাঘণ্টায়। একটানা চাপ ধরে রাখে দলটা। তবে আসেনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
তবে এরপর হঠাৎ বদলে যায় সবকিছু। হঠাৎ করেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে সৌদি আরব। টানা কয়েক মিনিট প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। পেয়ে যায় সাফল্যও।
৪১ মিনিটে লিড নেয় এশিয়ান দেশটি। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হাসান আল তামবাকতির দারুণ হেড উরুগুয়ের গোলরক্ষক আটকে দিলেও বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি।
তার হাত ফসকে বল বেরিয়ে গেলে সুযোগটি লুফে নেন আবদুলেলাহ আল আমরি। কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে সৌদি আরবকে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোল নিয়ে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সৌদি আরব।
বিরতির পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে উরুগুয়ে। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা। মরিয়া উরুগুয়ে এই অর্ধেই ২০টিরও বেশি শট নিয়েছে।
বিপরীতে দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় একরকম নিজেদের অর্ধে কোণঠাসা হয়ে থেকেছে সৌদি। বলা যায় রক্ষণে দেয়াল গড়ে তুলে তারা। সেই প্রতিরোধের দেয়ালে একবারই চিড় ধরাতে পেরেছে উরুগুয়ে।
৮০তম মিনিটে গোলের দেখা পায় দলটা। ফেদেরিকো ভিনাসের হেড গোলরক্ষক আটকালেও দলকে পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি, বল চলে যায় মাক্সি আরাউহোর পায়ে।
বলকে ঠিকানায় পাঠাতে ভুল করেননি এই লেফট-ব্যাক। তাতে ম্যাচে ফেরে সমতা। এ অবস্থায় জয়ের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে উরুগুয়ে। আক্রমনের ঝড় তোলে তারা। তবে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সৌদি রক্ষণ।
এই ম্যাচের আসল নায়ক সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস। ম্যাচে ৯টি গোল সেভ করেছেন তিনি।
পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখকে রেখে গোলের জন্য ২৮টি শট নেয় উরুগুয়ে। যার ১০টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে সৌদির সাত শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।


