নতুন মৌসুম শুরুর আগে প্রস্তুতিটা জয় দিয়েই শেষ করল বার্সেলোনা। বুধবার রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ঐতিহ্যবাহী জুয়ান গাম্প্যার ট্রফির ম্যাচে সৌদি ক্লাব আল আহলিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল।
শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। ২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় কাতালানরা। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সে পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান তরুণ মিসরীয় ফরোয়ার্ড হামজা আব্দেল কারিম।
আল আহলির বিপক্ষে গোল করলেও সাবেক ক্লাবের জালে বল পাঠিয়ে কোনো উচ্ছ্বাস দেখাননি হামজা। বরং হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে সতীর্থদের সাথে উদযাপন করেন তিনি।
হামজার জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ। গত জানুয়ারিতে আল আহলি থেকেই ধারে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কাতালানদের যুব দলের হয়ে ১১ ম্যাচে ছয় গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই তরুণ। পরে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সী হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে নেয় বার্সেলোনা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরো একবার গোলের সুযোগ পায় বার্সেলোনা। ডি-বক্সে রাফিনিয়া ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আল আহলি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাল্টা আক্রমণ থেকে দুর্দান্ত গোল করে ব্যবধান কমান মিসরীয় উইঙ্গার জিজো। ম্যাচ তখন জমে ওঠে ২-১ ব্যবধানে।
এরপর হান্সি ফ্লিক পুরো একাদশে পরিবর্তন আনেন। একসাথে এত পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে বার্সেলোনার খেলায়। আগের মতো আক্রমণের ধার দেখা যায়নি, আর সেই সুযোগে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় আল আহলি।
ম্যাচের শেষদিকে ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি সুযোগ পায় বার্সেলোনা। নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে নতুন যোগ দেয়া ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় কাতালানরা।
কিন্তু স্পট কিকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন গর্ডন। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এই জয়ে ২০২৬-২৭ মৌসুমের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শেষ করল হান্সি ফ্লিকের দল।
এবার তাদের সামনে মূল লড়াই- লা লিগার শিরোপা ধরে রাখার মিশন। আগামী রোববার এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন লা লিগা মৌসুম শুরু করবে বার্সেলোনা।



