কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞায় রক্ষণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ইংল্যান্ড

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে জেসুস গালার্দোর ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এরপর প্রায় ৩৬ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও জয় ধরে রাখে ইংল্যান্ড।

ক্রীড়া ডেস্ক
মেক্সিকোর জেসুস গালার্দোর সাথে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসার ফাউলের দৃশ্য
মেক্সিকোর জেসুস গালার্দোর সাথে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসার ফাউলের দৃশ্য |সংগৃহীত

শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। তবে সেই জয়ের আনন্দের মাঝেই বড় ধাক্কা খেয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের পাশাপাশি ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে জেসুস গালার্দোর ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এরপর প্রায় ৩৬ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও জয় ধরে রাখে ইংল্যান্ড।

সাধারণ নিয়মে সরাসরি লাল কার্ডের শাস্তি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হলেও, কোয়ানসার ট্যাকলকে ‘গুরুতর অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তি বাড়িয়ে দুই ম্যাচ করেছে ফিফা। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও নেই ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের। ফলে ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠতে পারলেই কেবল ১৯ জুলাইয়ের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে ফেরার সুযোগ পাবেন তিনি।

এই নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন প্রধান কোচ টমাস টুখেল। কারণ, রাইট-ব্যাক পজিশনে তার বিকল্পের সংখ্যা খুবই সীমিত। দলের প্রথম পছন্দের রাইট-ব্যাক রিস জেমস এখনও হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হননি। গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই তিনি মাঠের বাইরে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকায় মূল দলের সাথে অনুশীলনেও ফিরতে পারেননি।

জেমসের অনুপস্থিতিতে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই রাইট-ব্যাকে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয়েছে টুখেলকে। পানামার বিপক্ষে কোয়ানসা শুরু করলেও চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। পরে জেড স্পেন্স ও ডেকলান রাইসকে ওই পজিশনে খেলানো হয়। মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ানসা একাদশে ফিরলেও লাল কার্ড দেখার পর শেষ সময়ে দায়িত্ব পালন করেন এজরি কনসা। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে রক্ষণভাগ কীভাবে সাজাবেন, সেটিই এখন টুখেলের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়।

কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে অসন্তোষও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত রাখার ফিফার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর নিজেদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তবে টুর্নামেন্টের বিধি অনুযায়ী কোয়ানসার শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না থাকায় সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

এ প্রসাথে টুখেল প্রশ্ন তুলেছেন ফিফার শাস্তি প্রয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়ে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এর শুরু কোথায়, শেষই বা কোথায়? আমরা কি কোয়ানসার লাল কার্ড নিয়ে কিছু করতে পারি, নাকি পারি না? সীমারেখাটা কোথায় টানা হবে?’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি এভাবে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনটি লাল কার্ড, কোনটি নয়—সেটি নিয়েই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।’

নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তাই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় লড়াই শুধু প্রতিপক্ষকে হারানো নয়, বরং রক্ষণভাগের এই সংকট কাটিয়ে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলাও। নকআউট পর্বে একটি ছোট ভুলই যেখানে পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, সেখানে কোয়ানসার অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডের শিরোপা স্বপ্নে বড় পরীক্ষাই হয়ে উঠেছে।