বিশ্বকাপ মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উত্তেজনা আর জয়-পরাজয়ের গল্প। কিন্তু কখনো কখনো ফুটবল তার চেয়েও বড় কিছু হয়ে ওঠে—মানবিকতা, শ্রদ্ধা আর বিশ্বাসের এক অনন্য বার্তা।
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জার্মানি। তবে ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন নয়, সবার নজর কেড়েছে মাঠের মাঝখানে তৈরি হওয়া এক আবেগঘন দৃশ্য।
জার্মানির ফেলিক্স এনমেচা ও জোনাথান তা প্রতিপক্ষ কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সেই মুহূর্ত যেন হয়ে ওঠে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক।
এই দৃশ্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হলেও সতীর্থদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন জার্মানির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক আন্তোনিও রুডিগার।
নিজেও একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হওয়ায় তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। রুডিগারের ভাষায়, ‘ওরা যা করেছে, আমার মতে তাতে ভুলের কিছু নেই। ছবিগুলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। সত্যি বলতে, দারুণ সুন্দর একটি দৃশ্য ছিল।’
তিনি মনে করেন, বিশ্বাসের প্রকাশকে বিতর্কের চোখে দেখার কোনো কারণ নেই। ‘আমরা এমন একটি সমাজে বাস করি যেখানে মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়। তাই এখানে আমি কোনো সমস্যাই দেখি না। বরং ছবিগুলো খুবই সুন্দর।’
ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে রুডিগারের সমালোচনার মুখে পড়া অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে পবিত্র রমজান উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। ইসলামে তাওহিদের প্রতীক হিসেবে তর্জনী উঁচিয়ে তোলা সেই ছবিকে ঘিরে নানা সমালোচনা হয়েছিল।
তবে সমালোচনার জবাবে রুডিগারের অবস্থান আজো একই। ‘গঠনমূলক সমালোচনাকে আমি সম্মান করি। প্রয়োজন হলে ক্ষমাও চাইতে জানি। কিন্তু ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে অযথা বিতর্কের জবাব দেয়ার প্রয়োজন দেখি না।’
এদিকে জার্মান রক্ষণভাগেও চলছে নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন দলের নেতৃত্ব দেয়া রুডিগার এখন মূল একাদশের বাইরে। তবুও কোনো আক্ষেপ নেই রুডিগারের কণ্ঠে। বরং নতুন প্রজন্মের প্রতি রয়েছে অগাধ শ্রদ্ধা।
‘গত কয়েক বছরে জোনাথান নিজের খেলাকে অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বায়ার্ন মিউনিখে তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। এখন সে আমাদের রক্ষণের নতুন বস। এটা স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। সবারই একটা সময় আসে, এখন সময়টা ওদের।’
এই ডিফেন্ডার এখন বেঞ্চ থেকেই দলকে সমর্থন দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘বেঞ্চে বসে থাকা কখনোই সহজ নয়। তবে জাতীয় দলের হয়ে বেঞ্চে থাকা আর ক্লাবের হয়ে বেঞ্চে থাকার মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। দল যখন আমাকে ডাকবে, তখন প্রস্তুত থাকাটাই আমার দায়িত্ব।’
বিশ্বকাপের শুরুতেই ৭ গোলের দাপুটে জয় যেমন জার্মানির শক্তির জানান দিয়েছে। ‘ই’ গ্রুপে জার্মানির পরের ম্যাচ আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।



