এমবাপ্পে-দেম্বেলের গোলে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

কাতার বিশ্বকাপে শেষ চারের ম্যাচে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিল ফ্রান্স। এবার সুযোগ ছিল তার প্রতিশোধ নেয়ার। তবে তা আর হলো না, একই ব্যবধানে এবার তারা হেরে গেল শেষ আটেই।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে
ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে |সংগৃহীত

শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে আরো একধাপ এগিয়ে গেল ফ্রান্স। প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখলো ফরাসিরা। শেষ আটের ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোলে।

যতটা আলোচনা হচ্ছিলো মরক্কোকে নিয়ে, মাঠে তার প্রভাব দেখা গেল না খুব একটা। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের এ ম্যাচে আক্রমণে প্রায় একতরফা আধিপত্য ছিল ফরাসিদের। আরো একবার দেখা মিললো দুর্বার ও অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের।

কাতার বিশ্বকাপে শেষ চারের ম্যাচে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিল ফ্রান্স। এবার সুযোগ ছিল তার প্রতিশোধ নেয়ার। তবে তা আর হলো না, একই ব্যবধানে এবার তারা হেরে গেল শেষ আটেই।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে এগিয় ছিল ফ্রান্স। একাধিকবার গোলের কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল তারা, তবে গোল আসেনি প্রথমার্ধে। দুটো গোলের সবগুলোই হয়েছে শেষ ভাগে, ৬০-৬৬ মিনিটের মাঝে।

ম্যাচের ৫ মিনিটের মধ্যে দুইবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ফ্রান্স। তবে দুবারই মরক্কোকে বাঁচিয়েছেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। তবে বড় সুযোগ আসে ২৬ মিনিটে। পেনাল্টি পায় ফ্রান্স।

প্রতি-আক্রমণে বল নিয়ে মরক্কোর রক্ষণে ঢুকে পড়েন এমবাপ্পে। কিন্তু তাকে থামাতে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। তাৎক্ষণিকভাবে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে স্পটকিক থেকে গোল আসেনি।

এমবাপ্পের নেয়া দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বুনু। গোলের অপেক্ষা বাড়ে ফ্রান্সের। ৩৬ মিনিটে ফের দলকে বাঁচান বুনু। এবার দেজিয়ে দুয়েকে গোলবঞ্চিত করেন তিনি। গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

অবশেষে ৬০তম মিনিটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। বক্সের বেশ দূর থেকে চোখ ধাঁধানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি (১-০)। এর ৬ মিনিটের মাথায় উসমান দেম্বেলে করেন আরো একটি গোল।

ওই গোলেও আক্রমণের সূচনা করেন এমবাপ্পেই। বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে তিনি দুইজন ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নেন, ফলে বক্সের ঠিক বাইরে দেম্বেলের সামনে তৈরি হয় পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেম্বেলে নিচু করে বাঁকানো শট নেন। বুনু বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও সেটি তার হাত ছুঁয়ে জালের নিচের কোণে ঢুকে পড়ে (২-০)। হতাশায় ভেঙে পড়ে মরক্কো।

মরক্কো অবশ্য প্রতি-আক্রমণের ওপর নির্ভর করে খেলার চেষ্টা করে। তবে ফ্রান্সকে পরীক্ষায় ফলার মতো তেমন কোনো আক্রমণ তারা গড়তে পারেনি। পায়নি জালের দেখা।

ফলে শেষ আটেই শেষ হচ্ছে এবার আফ্রিকান দলটির রূপকথা। অন্যদিকে দাপুটে ফ্রান্স এগিয়ে গেল শিরোপা জয়ের পথে। অবশ্য জয়ের আগে ৭৭ মিনিটে এমবাপ্পেকে উঠিয়ে নেন কোচ।

তবে মাঠ ছাড়ার আগেই চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেন তিনি (৮)। এটি বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে এমবাপ্পের ২০তম গোল, যা শীর্ষে থাকা মেসির চেয়ে মাত্র এক গোল কম।