বৈষম্যের শিকার ইরান! ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

মামলায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের কাছে এ ঘটনায় ফিফার ভূমিকার বিচারিক পর্যালোচনারও আবেদন জানানো হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানকে ইচ্ছাকৃতভাবে নকআউট পর্বে উঠতে বাধা দেয়ার অভিযোগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাভেহ লতফোল্লাহ আফরাসিয়াবি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করেন। একইসাথে তিনি এটিকে ক্লাস-অ্যাকশন মামলা হিসেবে পরিচালনার অনুমতিও চেয়েছেন।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, মিসরের বিপক্ষে ইরানের অতিরিক্ত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ গোলটি অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়। ভিএআরের মাধ্যমে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিয়ে ইরানকে জয় ও শেষ ৩২-এ ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আফরাসিয়াবি।

বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের যোগ করা সময়ে। ইরানের হয়ে শোজা খলিলজাদেহ জালের দেখা পেলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।

তার ফলেই বিশ্বকাপে ইরানের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনার ইতি ঘটে। সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতেই গোলটি অফসাইড হিসেবে বাতিল করা হয়েছিল।

আফরাসিয়াবির অভিযোগ, এটি ছিল কেবল একটি বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত নয়; বরং পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ফিফা ইরানের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। তার দাবি, সংস্থাটি ইরানের জন্য সমান ও নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে দলটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

মামলায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের কাছে এ ঘটনায় ফিফার ভূমিকার বিচারিক পর্যালোচনারও আবেদন জানানো হয়েছে।

তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।