শেষ বাঁশি বাজার পর আইভরিকোস্টের জন্য আক্ষেপই থেকে গেল। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের দুই গোলে হার মানতে হয়েছে আফ্রিকার দলটিকে। বদলি হিসেবে নেমে দেনিজ উনদাভের জোড়া গোলে আইভরিকোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জার্মানি।
টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩০ মিনিটে অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে এগিয়ে যায় আইভরিকোস্ট। সেই লিড ধরে রেখে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। তাই এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা ছিল দলটির জন্য বড় স্বস্তির খবর।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় জার্মানি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে একসাথে তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান। আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ, লিরয় সানে ও জামাল মুসিয়ালার পরিবর্তে মাঠে নামেন নাদিম আমিরি, জেমি লেভেলিং ও দেনিজ উনদাভ। কোচের এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।
৬৮ মিনিটে নাদিম আমিরির পাস থেকে গোল করে সমতা ফেরান উনদাভ। এরপর ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আবারও গোল করে জার্মানিকে জয় উপহার দেন এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচে অবশ্য আরো আগে সমতায় ফিরতে পারত জার্মানি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাই হাভার্টজ বল জালে জড়ালেও ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। অন্যদিকে আইভরিকোস্টও বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করে। বিশেষ করে ৮৮ মিনিটে জার্মান বক্সে বল পেয়েও শট নিতে ব্যর্থ হন ফরোয়ার্ড সাইমন আদিংরা, যা পরে তাদের জন্য বড় আফসোস হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের আগে একটি পরিসংখ্যান জার্মানদের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল। বিশ্বকাপে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে আগে গোল হজম করার পর মাত্র একবার জয়ের দেখা পেয়েছিল তারা। তবে এবার সেই রেকর্ড বদলে দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তিন পয়েন্ট তুলে নেয় নাগলসমানের দল।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন একটি কীর্তি গড়েছে জার্মানি। কোনো এক পর্যায়ে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া ম্যাচের সংখ্যায় তারা ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বকাপে এমন ম্যাচে জার্মানির জয় এখন ১৬টি, যেখানে ব্রাজিলের রয়েছে ১৫টি।
এছাড়া ম্যাচটিতে মাঠে নেমে নতুন রেকর্ড গড়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। বিশ্বকাপে গোলকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ২১ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
‘ই’ গ্রুপে দুই ম্যাচ শেষে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আইভরিকোস্ট। অপর দুই দল ইকুয়েডর ও কুরাসাও এখনো পয়েন্টের দেখা পায়নি। ফলে গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোতে নকআউটের লড়াই আরো জমে ওঠার অপেক্ষা।



