বড় ম্যাচে যেন নায়ক হওয়া অভ্যাসই হয়ে গেছে মিকেল মেরিনোর। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর পর এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষেও বদলি নেমে স্পেনকে এনে দিলেন দুর্দান্ত এক জয়।
মাঠে নামার মাত্র চার মিনিটের মাথায় জালের দেখা পান এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। তার সেই জয়সূচক গোলেই ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।
তবে গোলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে মেরিনোর উদযাপন। বল জালে জড়ানোর পর কর্নার ফ্ল্যাগ ঘিরে চক্কর দেন তিনি। এটি ছিল নিছক আনন্দ প্রকাশ নয়, বরং বাবার প্রতি এক আবেগঘন শ্রদ্ধার নিদর্শন।
মেরিনোর বাবা মিগেল মেরিনো তোরেসও ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। ১৯৯২ সালে ওসাসুনার হয়ে স্টুটগার্টে ইউয়েফা কাপের এক ম্যাচে গোল করার পর ঠিক একই ভঙ্গিতে উদযাপন করেছিলেন তিনি।
প্রায় ৩৩ বছর পর ছেলেও সেই স্মরণীয় মুহূর্তকে নতুন করে জীবন্ত করে তুললেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। এই প্রসঙ্গে ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেরিনো বলেন, ‘আমি ভীষণ আনন্দিত। এখনো যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। আগেও এমন মুহূর্ত এসেছে, আজ আবারো সেটার পুনরাবৃত্তি হলো। সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এটি মানুষকে এক করে, আনন্দ দেয়। শুধু স্পেন নয়, বিশ্বের অসংখ্য সমর্থকের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা এখন শিরোপা জয়ের মাত্র দুই ম্যাচ দূরে। আশা করি, সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।’
অবশ্য বাবার সেই বিখ্যাত উদযাপন এবারই প্রথম নয়। চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পরও একইভাবে উদযাপন করেছিলেন মেরিনো।
এর আগে, ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে করা গোলের পরও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।
বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচে জয়সূচক গোল করে স্পেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ত্রাতাদের একজন হয়ে উঠেছেন মেরিনো। এবার তার সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামী মঙ্গলবার ডালাসে সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্পেন। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে সেদিনও মেরিনোর দিকেই তাকিয়ে থাকবে স্প্যানিশ সমর্থকেরা।
আবারো স্পেনের ত্রাতা মেরিনো, ফেরালেন বাবার স্মৃতিকে
বাবার সেই বিখ্যাত উদযাপন এবারই প্রথম নয়। চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পরও একইভাবে উদযাপন করেছিলেন মেরিনো।



