বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কি অনায়াসে শেষ ১৬ পেরোবে, নাকি বিশ্বকাপে অভিষেকেই নতুন রূপকথা লিখবে কেপ ভার্দে? আগামীকাল শনিবার ভোরের ম্যাচের আগে ফুটবলপ্রেমীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্নই।
কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট। বিশ্বকাপজয়ী তারকায় ঠাসা আর্জেন্টিনার বিপরীতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। তবে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তাদের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপার কম্পিউটার অবশ্য আর্জেন্টিনাকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৮১ শতাংশ।
কেপ ভার্দের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকার যোগ করলে শেষ ১৬ পেরোনোর সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ, কেপ ভার্দের ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।
তবে কেপ ভার্দেকে এগিয়ে রেখেছেন ঘানার আলোচিত তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম। এই ম্যাচ ঘিরে ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছেন তিনি। তার দাবি, রাউন্ড অব ৩২-এ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটাবে কেপ ভার্দে।
পরিসংখ্যান কিংবা ভবিষ্যৎবাণী দূরেই থাক। নকআউট বাস্তবতায় আগের ইতিহাস যেমন খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। অতীত সাফল্য, পরিসংখ্যান বা ভবিষ্যদ্বাণীও আলাদা সুবিধা দেয় না। সবকিছুই মাঠে এসে অর্থহীন হয়ে যায়।
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল লিওনেল স্কালোনির দল। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান—তিন প্রতিপক্ষকেই হারিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
অধিনায়ক লিওনেল মেসিও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার এখন তিনি। এই সাত ম্যাচে তার গোল ১১টি। যেখানে চলতি আসরে ৩ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে মেসির অবদান পাঁচ গোল ও চার অ্যাসিস্ট—মোট নয়টি গোলে সরাসরি ভূমিকা। অর্থাৎ কেপ ভার্দের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে কেপ ভার্দে এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়েই। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে নিয়ে কঠিন গ্রুপে তিনটি ম্যাচই ড্র করে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে তারা। সেই সাথে দিয়েছে নিজেদের শক্তির জানান।
বিশ্বকাপে অভিষেকেই অপরাজিত থেকে নকআউটে ওঠা প্রথম দল হিসেবে ২০০২ সালের সেনেগালের পর নতুন ইতিহাসও গড়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। যেখানে তদেরর সবচেয়ে বড় ভরসা তাদের রক্ষণভাগ।
৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ইতোমধ্যে দুইটি ক্লিন শিট রেখেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে বিশ্বকাপে একাধিক ক্লিন শিট রাখা পিটার শিলটন ও দিনো জফের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
দুই দলের এটি হবে প্রথম মুখোমুখি লড়াই। পরিসংখ্যান অবশ্য আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের শেষ সাতটি ম্যাচ জিতেছে তারা। যদিও ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের কাছে হারের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বমঞ্চে কোনো প্রতিপক্ষকেই অবহেলা করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে কেপ ভার্দেও ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে। বিশ্বকাপে অভিষেকেই নকআউট পর্বে বর্তমান চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হওয়া ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল তারা। এবার সেই ইতিহাসকে আরো স্মরণীয় করে তুলতে পারলে ফুটবল বিশ্ব পেতে পারে আরেকটি রূপকথা।



