সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্সেনাল ও স্পেনের সাবেক মিডফিল্ডার সান্টি কাজোরলা। এর মাধ্যমে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলের সাথে সম্পর্কের অবসান ঘটালেন ৪১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
২০২৫ সালে নিজের শৈশবের ক্লাব ওভিয়েদোকে আবারো লা লিগায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কাজোরলা। এরপর স্পেনের শীর্ষ লিগে সেই ক্লাবের হয়েই নিজের ক্যারিয়ারের শেষ মৌসুম খেলেন তিনি।
সান্টি কাজোরলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে বলেন, এখন যখন সবকিছুর সমাপ্তি ঘটছে, বুটজোড়া তুলে রাখছি, আর গ্যালারির কোলাহল নীরবতায় মিলিয়ে যাচ্ছে, তখন সবকিছুই অর্থবহ মনে হচ্ছে। কারণ আমার ক্যারিয়ারের শেষটা যেকোনো জায়গায় নয়, নিজের ঘরেই হয়েছে।
ওভিয়েদোর যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর কাজোরলা ভিয়ারিয়ালে যোগ দেন। পরে রেক্রিয়াতিভো ও মালাগায় খেলার পর ২০১২ সালে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালে নাম লেখান।
লন্ডনের ক্লাবটিতে ছয় বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দুটি এফএ কাপ জেতেন।
সৃজনশীল এই মিডফিল্ডার স্পেনের হয়ে ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন। তবে চোটের কারণে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলে খেলতে পারেননি। চোট-আঘাত পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই তাকে ভুগিয়েছে।
আর্সেনাল ছাড়ার পর তিনি আবার ভিয়ারিয়ালে ফেরেন। এরপর কাতারের ক্লাব আল সাদে যোগ দেন। ২০২৩ সালে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ওভিয়েদোতে ফিরে আসেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ওভিয়েদো জানায়, কাজোরলা লিগে অনুমোদিত সর্বনিম্ন বেতনে ক্লাবে ফিরতে রাজি হয়েছিলেন এবং নিজের সব ইমেজ-রাইটস ক্লাবকে দান করেছিলেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিনিময়ে তিনি শুধু একটি অনুরোধ করেছিলেন- তার জার্সি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ১০ শতাংশ যেন সম্পূর্ণভাবে রিয়াল ওভিয়েদোর যুব একাডেমির জন্য ব্যয় করা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশে তা সহায়তা করে।
ওভিয়েদো আরো জানিয়েছে, কাজোরলা যে ভূমিকাতেই থাকতে চান না কেন, ক্লাব তাকে নিজেদের সাথে রাখতে চায় এবং যে ভূমিকায় তিনি সুখী থাকবেন, সেই ভূমিকাতেই তাকে স্বাগত।



