হাল আমলে, অর্থাৎ যারা এখনো খেলে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সবার আগে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
লিওনেল মেসির সাথে যার তুলনা সেই মেসির সাথেই ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে তার। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের মতোই এবার ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন সিআর সেভেন।
ক্লাব ফুটবলে একাধিক শিরোপার মালিক। নিজ দল পর্তুগালকে কখনোই বিশ্বকাপের ফাইনালে নিতে পারেননি। এ ছাড়া কখনোই তাকে ঘিরে আলোচনা হয়নি যে, তিনি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতবেন বা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন।
আসলে আগের ৫ বিশ্বকাপের ৪টিতেই- যার একটি করে গোল- তার কাছে আর কী আশা করা যায়।
এবার অনেক বড় আশা নিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন রোনালদো। আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম পাড় থেকে ট্রফি নিয়ে যাবেন পূর্ব পাড়ে। কিন্তু ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পর্তুগাল যেমন ব্যর্থ তেমনি হতাশ করেছেন সৌদি লিগ আল নাসরের এই ফরোয়ার্ডও।
মেসি, হ্যারি কেন, আর্লিং হলান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পেরা প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়েছেন। তা একাধিক করে। সেখানে ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা রোনালদো ফ্লপ। আফ্রিকান দেশ কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বাধার কারণে কোনো সুবিধাই করতে পারেননি রোনালদো। দুইবার পোস্ট লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন। তবে কোনো শটই লক্ষ্যে ছিল না।
লিড নিয়েও কঙ্গোর বিপক্ষে জিততে না পারা। তার ওপর পুরো ৯০ মিনিটে মাঠে অসহায়ের মতো দৌড়াদৌড়ি করা, যা সমালোচনায় বিদ্ধ করছে সিআর সেভেনকে।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার করা গোলের সংখ্যা ৮টি। কাতার বিশ্বকাপে তাকে খেলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ জন্য সমালোচিত হন কোচ। কঙ্গোর বিপক্ষে ৯০ মিনিটই মাঠে ছিলেন। করতে পারেননি কিছুই। এখন এ জন্য রোনালদোর পাশাপাশি সমালোচিত বর্তমান কোচও।
শুধু পর্তুগাল জাতীয় দলই নয়। বিশ্ব ফুটবলে এই সময়ে সেরা দুই তারকার একজন এই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গোল ও জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছেন মেসি, এমবাপ্পে এবং হ্যারি কেনরা। সেখানে কোনোটিই পেলেন না রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক ফরোয়ার্ড।
এই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আসরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় পেছনেই ছিলেন রোনালদো। আর কঙ্গোর বিপক্ষে কোনো গোল না পেয়ে আরো পেছনেই চলে গেলেন তিনি।
কিলিয়ান এমবাপ্পের মতোই বিশ্বকাপের বিগ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো। ২০১৮ সালে তার তিন গোল ছিল স্পেনের বিপক্ষে। ফলে ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়। এরপর তার অপর গোল ছিল মরক্কোর বিপক্ষে। এক বিশ্বকাপে এই চার গোলই তার সর্বোচ্চ। বাকি সব আসরে একটি করে গোল।
২০০৬ সালে ইরান, ২০১০ সালে উত্তর কোরিয়া, ২০১৪ সালে ঘানা এবং ২০২২ সালে সেই ঘানার বিপক্ষে গোল তার।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তার মতো তারকা ফুটবলারের এতো কম গোল নিতান্তই বেমানান। আর এখন কঙ্গোর বিপক্ষে ব্যর্থতার পর সতীর্থদের তুলনায় আরো পিছিয়ে গেলেন কয়েক বছর আগে জুভেন্টাসে খেলা এই ফুটবলার।
নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে এখন রোনালদো কি পারবেন দলকে টেনে তুলতে এবং নিজে গোল করতে, যা তিনি অতীতে বহুবার করেছিলেন।



