বিশ্বকাপে স্পেন এখন শুধু জয়ের গল্পই লিখছে না, রক্ষণেও গড়ে তুলছে একের পর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি। প্রতিপক্ষের জন্য গোল করাটাকেও যেন অসম্ভব করে তুলেছে স্পেন। গতরাতে পর্তুগালের বিপক্ষেও ধরে রাখে ক্লিনশিট।
সোমবার শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ আটে ওঠার পথে লা রোজারা এমন দু’টি বিশ্বরেকর্ড গড়েছে, যা আগে কোনো দল ছুঁতে পারেনি।
ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময় মিলিয়ে ১০২ মিনিট নিজেদের জাল অক্ষত রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ফলে চলতি বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচেই ক্লিন শিটের অনন্য কীর্তি ধরে রাখল তারা। এর সাথে যোগ হয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচটিও।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ কোনো গোল না খেয়ে ইতিহাসের প্রথম দল হয়ে গেছে স্পেন। এর আগে ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড ছিল সুইজারল্যান্ডের।
আরেকটি রেকর্ডও এখন স্পেনের দখলে। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপে তাদের টানা গোল না খাওয়ার সময় দাঁড়িয়েছে ৬২১ মিনিটে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নিজেদের জাল অক্ষত রাখার নতুন বিশ্বরেকর্ড।
আগের রেকর্ডটি ছিল সুইজারল্যান্ডের। ১৯৯৪ থেকে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সুইসরা টানা ৫৫৯ মিনিট গোল হজম করেনি।
এই রেকর্ডযাত্রার সবচেয়ে বড় মুখ গোলরক্ষক উনাই সিমন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম গোলকিপার হিসেবে ৬০০ মিনিটের বেশি সময় কোনো গোল না খাওয়ার নজির গড়েছেন তিনি।
বর্তমানে তার ক্লিন শিটের ধারাবাহিকতা ৬২১ মিনিট। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির ওয়াল্টার জেঙ্গার ৫১৭ মিনিটের রেকর্ডই ছিল সর্বোচ্চ।
স্পেনের এই রক্ষণদুর্গ কতটা দুর্ভেদ্য, তার প্রমাণ মিলছে প্রতিটি ম্যাচেই। প্রতিপক্ষ একের পর এক আক্রমণ সাজালেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই ফিরতে হচ্ছে।
আক্রমণে কার্যকারিতা আর রক্ষণে অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলার মিশেলে লা রোজা এখন কেবল শিরোপার দাবিদারই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের পরিচয়ও দিয়ে চলেছে।



