ম্যাচ শুরুর আগে ছিল টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার চাপ। শেষ বাঁশি বাজার পর সেই চাপের নাম-নিশানা নেই- আছে শুধু লিওনেল মেসিকে ঘিরে উচ্ছ্বাস। একাই ৪ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা, আছে একটা অ্যাসিস্টও।
শনিবার রাতে নিজেদের মাঠে মেসির এমন দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সিএফ মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মায়ামি। যা ইন্টার মায়ামির ক্লাব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মায়ামি। ২০ মিনিটে ক্যাসেমিরোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। তবে ৩৭ মিনিটে ফ্যাবিয়ান হারবার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্ট্রিয়েল। এরপরই শুরু মেসির জাদু।
৪০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে মায়ামিকে আবার এগিয়ে দেন মেসি। বিরতির পর ৫২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তার সেই গোল যেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি মায়ামির হাতে তুলে দেয়।
এরপর ৮০ মিনিটে মেসির পাস থেকে গোল করেন লুইস সুয়ারেজ। তিন মিনিট পর আবার জালের দেখা পান মেসি। ৮৩ মিনিটে দারুণ এক চিপে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে পূরন করেন হ্যাটট্রিক। অন্যদিকে ৮৯ মিনিটে আলেক্সান্ডার শ’র গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-১।
এদিকে হ্যাটট্রিক করেও অবশ্য মেসির গোলের ক্ষুধা শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আবারো ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে চার গোলের অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন তিনি। মেজর লিগ সকারে এটাই মেসির প্রথম চার গোলের ম্যাচ।
চার গোলের সাথে একটি অ্যাসিস্ট- পুরো ম্যাচেই ছিলেন মায়ামির আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। এই পারফরম্যান্সে চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে এবং গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি উঠে এসেছেন শীর্ষে।
শুধু মেসির ব্যক্তিগত কীর্তিই নয়, দলীয়ভাবেও ম্যাচটি ছিল ঐতিহাসিক। ৭-১ ব্যবধানের জয় ইন্টার মায়ামির ক্লাব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়। একইসাথে ক্লাবের ইতিহাসে এক ম্যাচে প্রথমবার সাত গোল করার কীর্তিও গড়েছে তারা।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের জয়হীন ধারা ভেঙেছে মায়ামি। আগস্ট মাসে টানা কঠিন সময় পার করার পর মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে এমন দাপুটে জয় দলটিকে দিয়েছে নতুন আত্মবিশ্বাস।



