‘ফ্রান্স বজ্রঝড়ের মতো, লুকানোর কোনো জায়গা নেই’

আলফারোর সতর্ক বার্তা

আলফারোর মতে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্করগুলোর একটি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল
ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল |সংগৃহীত

রাউন্ড অব ৩২-এ জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে বড় চমক দেখিয়েছে প্যারাগুয়ে। তবে শেষ ষোলোয় তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ ফ্রান্স—যাদের আক্রমণভাগকে ‘বজ্রঝড়ের’ সাথে তুলনা করেছেন প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো।

বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের আক্রমণশক্তির ভূয়সী প্রশংসা করে নিজের শৈশবের একটি স্মৃতিও তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন এই কোচ।

আলফারোর মতে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্করগুলোর একটি।

‘আপনি যদি ফ্রান্সের গোল করার গড় দেখেন, বুঝতে পারবেন কেন তারা বিশ্বের এক নম্বর দলগুলোর একটি।’ এরপরই নিজের শৈশবের একটি ঘটনা টেনে এনে বলেন-

‘আমি গ্রামের ছেলে। আর্জেন্টিনার রাফায়েলায় বড় হয়েছি। বজ্রবৃষ্টি হলে আমাদের লুকানোর কোনো জায়গা থাকত না, কারণ সেখানে কোনো বজ্রনিরোধক ছিল না।’

‘ফ্রান্সও ঠিক তেমনই। তাদের আক্রমণ বজ্রঝড়ের মতো। যখন সেটি আপনার গোলমুখে আছড়ে পড়বে, তখনই বুঝতে পারবেন কী আসছে।’

বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে নিজের চার ফেবারিট দলের নামও জানিয়েছেন আলফারো। তার তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, স্পেন, ব্রাজিল ও ফ্রান্স। তবে এই চার দলের মধ্যে ফ্রান্সকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখছেন তিনি।

‘আমার চোখে বিশ্বকাপের চার দাবিদার আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ব্রাজিল। তবে তাদের মধ্যে ফ্রান্সই এক নম্বরে।’

প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেরা সাফল্য ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। এবারো শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। তবে বর্তমান দলকে ২০১০ সালের দলের সাথে তুলনা করতে নারাজ আলফারো।

‘২০১০ সালের দলের সাথে নিজেদের তুলনা করতে চাই না। তারা ইতিহাসের অংশ। আমরা আমাদের নিজেদের ইতিহাস লিখতে চাই। অন্য অনেক দলের কাছে ভালো বিশ্বকাপ মানে সেমিফাইনালে ওঠা। কিন্তু আমাদের কাছে প্রতিটি ধাপই নতুন অর্জন।’

যদিও ফ্রান্সকে পরিষ্কার ফেবারিট মানছেন, তবু আশা ছাড়ছেন না প্যারাগুয়ে কোচ। তার হিসাব অনুযায়ী, এই ম্যাচে তাদের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। তবে জার্মানিকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

‘আমরা এখানে বেড়াতে আসিনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছি। আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, আমরা ইতোমধ্যেই অনেক কিছু অর্জন করেছি। ফ্রান্সকে হারাতে পারি বা না পারি, তাতে সেটা বদলাবে না।’

‘হয়তো আমাদের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। কিন্তু আত্মবিশ্বাস একটি দলকে বদলে দিতে পারে। জার্মানিকে হারিয়ে আমরা সেই আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছি,’ যোগ করেন তিনি।

জার্মানির বিপক্ষে জয়ের পর আরো এক ইউরোপীয় পরাশক্তির সামনে দাঁড়িয়েছে প্যারাগুয়ে। এবারো চমক দেখাতে পারবে কি না, তার উত্তর মিলবে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে।