শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চোখধাঁধানো ফুটবল না হলেও উত্তেজনার কোনো ঘাটতি ছিল না। কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি, তর্ক-বিতর্ক আর ভিএআর নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স।
ফিলাডেলফিয়ায় শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফ্রান্সের দখলে। ৭৬ শতাংশ বলের দখল ধরে রেখে তারা ১৫টি শট নেয়, যেখানে প্যারাগুয়ে নিতে পারে মাত্র পাঁচটি। পাসিংয়েও ছিল ফরাসিদের স্পষ্ট আধিপত্য—৫৫২টি সফল পাসের বিপরীতে প্যারাগুয়ের ছিল ১৭৫টি।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ফ্রান্স। অষ্টম মিনিটে প্রথম কর্নার পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। প্রথম ১১ মিনিটেই বলের দখল ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। ২৩ মিনিটের মধ্যে টানা চারটি এবং প্রথমার্ধে মোট সাতটি কর্নার পেলেও প্যারাগুয়ের দৃঢ় রক্ষণ ও গোলরক্ষক অরলান্ডো গিলের দৃঢ়তায় গোলের দেখা মেলেনি। ৩১ মিনিটে ওসমান ডেম্বেলের ক্রস থেকে এমবাপ্পে হেডের সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
৩৬তম মিনিটে আন্দ্রেস কুবাসের ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রথমার্ধে ছয়টি শট নিয়েও গোল করতে না পারায় গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ফ্রান্স। ৫৫তম মিনিটে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন অরলান্ডো গিল। এরপর ইনজুরির কারণে একাধিক পরিবর্তন আনে দুই দল।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৬৭তম মিনিটে। বক্সে বদলি খেলোয়াড় দেজিরে দুয়ে ফাউলের শিকার হলে প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন রেফারি। তবে ভিএআরের পরামর্শে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি দেন। ৭০তম মিনিটে স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।
চলতি বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের সপ্তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে প্যারাগুয়ে। ৯০তম মিনিটে মৌরিসিওর দূরপাল্লার শট দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ান। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেলেও এমবাপ্পেকে হতাশ করেন অরলান্ডো গিল।
নির্ধারিত সময়ের সাথে যোগ হওয়া ১০ মিনিটেও আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
শেষ আটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে উত্তর আফ্রিকার দলটি। ফলে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই।



