১০ গোলে হারের দায় নিলেন বাটলার

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার মতো দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন বাটলার। তাই পরের ম্যাচের আগে কৌশলে পরিবর্তন আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পিটার জেমস বাটলার
পিটার জেমস বাটলার |সংগৃহীত

এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের অসহায় আত্মসমর্পণের পর প্রশ্ন উঠেছে কোচ পিটার জেমস বাটলারের একাদশ ও কৌশল নিয়ে। অভিজ্ঞ ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার ও শামসুন্নাহারকে বেঞ্চে রেখে তারুণ্যনির্ভর দল নামিয়েছিলেন তিনি।

তবে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেয়ার পাশাপাশি ১০-০ হারের পুরো দায়ও নিজের কাঁধে নিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। তার ব্যাখ্যা, তরুণদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের দল তৈরি করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এমন সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার শক্তির দিকটাও দেখতে বললেন বাটলার।

সোমবার জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথমার্ধেই সাতবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় উত্তর কোরিয়া। বিরতির পর আরো তিন গোল করে তারা।

১০-০ ব্যবধানের এই হার বাংলাদেশের নারী দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়। এর আগে ২০১৩ সালে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে থাইল্যান্ডের কাছে ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কেন অভিজ্ঞদের বাইরে রেখে একাদশ সাজানো হলো, ম্যাচের পর সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হন বাটলার। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। আমাদের এমন একজন মেয়ে রয়েছে, যার বয়স মাত্র ১৫ বছর।’

‘এখন তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল—হয়তো অনেকেই আমাদের কাজের এই উন্নয়নমূলক দিকটি পছন্দ করছেন না। তবে আপনাকে বুঝতে হবে যে আমাদের নিজস্ব কোনো স্বীকৃত লিগ নেই। আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না, কারণ আজকের এই ফলাফলের পুরো দায় আমি নিচ্ছি; যেহেতু তারা আমার খেলোয়াড়।’

তবে তরুণদের খেলানোই যে এমন হারের একমাত্র কারণ নয়, সেটিও স্পষ্ট করেছেন ইংলিশ এই কোচ। তার চোখে উত্তর কোরিয়ার গতি, সংগঠন ও সামর্থ্যের সাথে বাংলাদেশের বড় পার্থক্যই ম্যাচে মূল ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।

বাটলারের ভাষায়, ‘উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও গোছানো একটি দল; বিশেষ করে তারা এমন গতিতে খেলে যার সাথে আমাদের মেয়েরা অভ্যস্ত নয়। সত্যি বলতে, ওই দলের মানের বিপক্ষে খেলার মতো যথেষ্ট দক্ষতা বা সক্ষমতা এই পর্যায়ে আমাদের এখনো নেই। তারা অসাধারণ খেলেছে; তাদের খেলা দেখাটা ছিল উপভোগ্য।’

নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট নন বাটলার। তিনি বলেন, ‘কোচ হিসেবে আমি দলকে যেভাবে খেলাতে চেয়েছিলাম, আজ আমরা তার ঠিক উল্টোটা করেছি, যেটা আমাকে হতাশ করেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা বড় ব্যবধানে হেরেছি এবং এই হার আমাদের প্রাপ্য ছিল।’

দ্বিতীয়ার্ধে দল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে বলে মনে করেন বাটলার। তবে বড় হারের পরও সেটিকে নিয়ে পড়ে থাকতে চান না তিনি। তার দৃষ্টি এখন গ্রুপের পরের ম্যাচগুলোর দিকে, বিশেষ করে মিয়ানমারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে।

বাটলার বলেন, ‘আমি কোনো জাদুকর নই যে টুপি থেকে খরগোশ বের করে আনব। আমি একজন পেশাদার ফুটবল কোচ; আমার মনে হয়, দ্বিতীয়ার্ধে দল ভালো খেলেছে। আমি যা করার চেষ্টা করেছি তা হলো তাদের ওপর কাজের চাপ বা ধকল কিছুটা কমিয়ে রাখা।’

তিনি আরো বলেন, ‘কারণ, কথাটা হয়তো শুনতে গৎবাঁধা মনে হতে পারে, কিন্তু এই ম্যাচের ফলাফল ১-০ নাকি ১০-০ হলো, তাতে আসলে কিছু যায় আসে না; আমাদের আসল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হলো মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচটি।’

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার মতো দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন বাটলার। তাই পরের ম্যাচের আগে কৌশলে পরিবর্তন আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

‘দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিও সম্ভবত আজকের ম্যাচের মতোই হবে। তবে আমাদের ফিরে গিয়ে দলের কৌশলে কিছুটা রদবদল আনতে হবে এবং দেখতে হবে এরপর আমরা কোন পথে এগোব,’ বলেন বাংলাদেশ কোচ।