দলের অর্ধেকটাই বদলে গেছে। সিরিজের মাঝপথেই দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে সাত ক্রিকেটারকে। সাথে বিদায় নিতে হয়েছে কোচিং স্টাফের দুই সদস্যকেও। পাকিস্তান ক্রিকেটে যখন এমন ঝড়, তখন অধিনায়ক বাবর আজম নীরব।
আর সেই নীরবতাই এবার প্রশ্নের মুখে। সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ সরাসরি বলে দিলেন—এভাবে অধিনায়কত্ব করার কোনো অর্থ নেই। তার চোখে, বাবর এখন আর দলের প্রকৃত নেতা নন; তিনি হয়ে গেছেন পিসিবির ‘পুতুল’ অধিনায়ক।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে বড় হারের পর হঠাৎ করেই পাকিস্তান দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনে পিসিবি। তৃতীয় টেস্টের আগে মোহাম্মাদ রিজওয়ান, সালমান আলি আগা, ইমাম-উল-হাকসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
শুধু ক্রিকেটার নয়, বদলে গেছে কোচিং স্টাফও। টেস্ট দলের প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে যেন রাতারাতি পালাবদল। কিন্তু এত বড় সিদ্ধান্তের পরও বাবরের অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ লতিফ। গতকাল (মঙ্গলবার) নিজের ইউটিউব শোতে বাবর আজমের নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক এই অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘বাবরের এখানেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। দলের অর্ধেককে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি তার জায়গায় থাকলে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতাম। তুমি এখন ‘পুতুল’ অধিনায়ক হয়ে গেছো।’
এরপরই নেতৃত্বের সংজ্ঞা টেনে লতিফ বলেন, ‘একজন নেতা আর একজন অধিনায়কের মধ্যে পার্থক্য আছে।’
তার অভিযোগ, পিসিবি এমন একজন অধিনায়কই চায়, যিনি শুধু মাঠে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন না।
লতিফ বলেন, ‘সাতজন খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। ইমামের বিষয়টি না হয় বুঝলাম, সে চোট পেয়েছে। এছাড়া আরো ছয়জন খেলোয়াড়কেও ফেরত পাঠানো হয়েছে। কোচ ও মেন্টরকে ফেরত পাঠিয়েছে।’
সারফারাজের প্রসঙ্গ টেনে আরো ক্ষোভ ঝাড়েন সাবেক এই অধিনায়ক। ভারতের বিপক্ষে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানো অধিনায়ককেই এবার কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
লতিফের প্রশ্ন, এমন অবস্থায়ও বাবর কেন নিজের দলের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না?
তিনি বলেন, ‘অথচ তুমি (বাবর) নিজের দলের পাশে দাঁড়াচ্ছ না! কোচকে এভাবে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে আর তুমি চুপচাপ বসে আছো। এতেই বোঝা যায়, পিসিবির সবসময় একজন ‘পুতুল’ অধিনায়কেরই প্রয়োজন হয়।’
অবশ্য বাবরের নিজের পারফরম্যান্সও এই মুহূর্তে স্বস্তি দেয়ার মতো নয়। কব্জির চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ফিরে দুই ইনিংসে করেছেন মাত্র ৮ ও ৬ রান।
গত জুলাইয়ে শান মাসুদকে সরিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে বাবরের হাতে টেস্ট অধিনায়কত্ব তুলে দিয়েছিল পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তার নেতৃত্বে একটি টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ইংল্যান্ডে এসে প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরে এখন প্রবল চাপে দলটি।
সেই চাপের মধ্যেই তৃতীয় টেস্টে একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে নামছে পাকিস্তান। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট।



