২০২৪ সালের অক্টোবরে হেড কোচ হিসেবে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন ফিল সিমন্স। তখনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলছেন তামিম ইকবাল। এমনকি অধিনায়ক হিসেবে জিতেন বিপিএল শিরোপাও।
এর দেড় বছর পর সেই তামিমই এখন বিসিবি সভাপতি। সবমিলিয়ে সিমন্স দায়িত্ব নেয়ার পর বিসিবিতে দেখেছেন তিনজন সভাপতি। তামিমের আগে ছিলেন ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
এত দ্রুত সভাপতি পরিবর্তন বা তামিমকে সভাপতি হতে দেখা— প্রায় সবকিছু নিয়েই আজ (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন ফিল সিমন্স। জানান- এসব ঘটনায় তিনি অবাক হননি।
‘এখন আর জীবনে কিছুতেই আমি অবাক হই না। এর সাথে অন্য কিছুর কোনো সম্পর্ক নেই, এটা শুধু জীবনের ব্যাপার। জীবনে আমি অনেক কিছু দেখেছি, জানি প্রতিদিনই অনেক কিছু ঘটে। তাই কোনো কিছুতেই আমি অবাক হই না।’
নতুন সভাপতির সাথে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে জানিয়ে সিমন্স বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের স্টাফদের সাথে তার কথা হয়েছে। দুদিন আগে যখন খেলা চলছিল তখন তিনি ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন। কয়েকবারই কথা হয়েছে।’
এত ঘন ঘন সভাপতি পরিবর্তন হলে কোচ হিসেবে তার কাজে কোনো পরিবর্তন আনতে হয় কি না? প্রশ্নে সিমন্স বলেন, ‘আপনি যেমন বললেন, এটি তৃতীয় সভাপতি। তবে এতে আমার দায়িত্ব পালনে কোনো পার্থক্য থাকে না।’
‘আমরা কিভাবে দলকে প্রস্তুত করি বা সিরিজের জন্য কিভাবে কাজ করি তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কোচিং গ্রুপ হিসেবে আমরা যেভাবে কাজ করি সেটিও বদলায়নি। তারা তো হেড কোচ হয়ে আসছেন না।’
‘তাই আমি আমার কাজটাই করে যাচ্ছি, কারণ আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি এবং কিছু গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। কেউ আমাদের পরিকল্পনা বদলানোর চেষ্টা করেনি। আমরা যে পরিকল্পনা বলেছিলাম, সেটিই এখনো গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’
এমনকি ক্রিকেট বোর্ডের এমন উত্থান-পতনের প্রভাব ক্রিকেটারদের ওপর তেমন একটা পড়েনি দাবি করে সিমন্স বলেন- ‘আমাদের কাজ বা অনুশীলনের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। আমাদের যে ক্যাম্প ছিল সেটাও প্রভাবিত হয়নি।’
‘খেলোয়াড়দের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না জানতে চাইলে তাদেরই জিজ্ঞেস করতে হবে। কারণ আমি মনস্তাত্ত্বিক কোনো প্রভাব দেখিনি। তারা সব কাজই করেছে, যেমনটা সাধারণত করে। তাই সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা দরকার তারা এখনো সেগুলোই করে যাচ্ছে।’ যোগ করেন সিমন্স।
উল্লেখ্য, তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। আগামী ১৭ এপ্রিল মিরপুরে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। দ্বিতীয় ম্যাচ একই ভেন্যুতে ২০ এপ্রিল তারিখে।
তবে ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। আর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে, দ্বিতীয় ম্যাচ ২৯ এপ্রিল। সিরিজের শেষ ম্যাচটি ১ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।



