বৃষ্টি আইনে হারল বাংলাদেশ, সমতায় শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ

১৫ ওভারে নিউজিল্যান্ডকে করতে হতো ১০৩ রান। সহজ লক্ষ্যই বটে। যদিও শুরুতে শরীফুল খানিকটা চেপে ধরেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আইনে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে কিউইরা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নিউজিল্যান্ডের সাথে সিরিজ ভাগাভাগি করল বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ডের সাথে সিরিজ ভাগাভাগি করল বাংলাদেশ |সংগৃহীত

সিরিজ জেতা হলো না বাংলাদেশের। শেষমেশ বৃষ্টি আইনে মিরপুরে পেরে উঠেনি টাইগাররা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হেসেখেলেই জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। ফলে ১-১ সমতায় নিউজিল্যান্ডের সাথে সিরিজ ভাগাভাগি করল বাংলাদেশ। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

১৫ ওভারে নিউজিল্যান্ডকে করতে হতো ১০৩ রান। সহজ লক্ষ্যই বটে। যদিও শুরুতে শরীফুল খানিকটা চেপে ধরেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আইনে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে কিউইরা।

আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ৩ ওভারে ২১ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন টাইগারদের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। চতুর্থ ওভারের শুরুতে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বাঁ-হাতি স্পিনার জেডেন লেনক্স। ২টি চারে ১১ বলে ১৬ রান করা সাইফকে শিকার করেন লেনক্স।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন নিউজিল্যান্ড পেসার ন্যাথান স্মিথ। তানজিদকে ৬ রানে এবং পারভেজ হোসেন ইমনকে খালি হাতে বিদায় দেন স্মিথ। ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ফলে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে ৪৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি টাইগাররা।

সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলের পর বৃষ্টিতে প্রায় দেড় ঘন্টা বন্ধ থাকে খেলা। ফলে ম্যাচটি ১৫ ওভারে নির্ধারিত হয়। বৃষ্টির কারনে বন্ধ হবার আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৫০ রান। এসময় অধিনায়ক লিটন দাস ২৫ ও তাওহিদ হৃদয় ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

খেলা পুনরায় শুরু হলে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন লিটন ও হৃদয়। কিন্তু নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে নিউজিল্যান্ড পেসার জশ ক্লার্কসনের বলে স্মিথকে ক্যাচ দেন লিটন। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করেন টাইগার দলপতি। চতুর্থ উইকেটে ২২ বলে ২৮ রান যোগ করেন লিটন-হৃদয়।

এরপর পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন হৃদয় ও শামীম হোসেন। কিন্তু ১৯ বলে ২৩ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। দলীয় ৮৬ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে শামীম ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১৮ বলে ১৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সিরিজের প্রথম ম্যাচের নায়ক হৃদয়। তার ২৪ বলের ইনিংসে তিনটি চার ও দু’টি ছক্কা ছিল।

২ ওভারে ৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সেরা বোলিং পারফরমেন্স করেছেন ক্লার্কসন। এছাড়া স্মিথ ও বেন সিয়ার্স দু’টি করে উইকেট নেন।

জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ পেসার শরিফুল ইসলামের তোপের মুখে পড়ে ২৫ রানে ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। পতন হওয়া ৩ উইকেটই নেন শরিফুল। কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভারকে ১ রানে এবং টিম রবিনসনকে ২৩ রানে আউট করেন শরিফুল।

পঞ্চম ওভারে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক নিক কেলিকে ১ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান স্পিনার মাহেদি হাসান। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এরপর বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। ৪০ বলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন তারা।

পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৩১ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন জ্যাকবস। তার সাথে ১৫ বলে ১৫ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফক্সক্রফট।

শরিফুল ৩ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। ২০ রানে ১ উইকেট নেন মাহেদি। ম্যাচ সেরা হয়েছেন জ্যাকবস এবং সিরিজ সেরা হয়েছেন হৃদয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ১০২/১০, ১৪.২ ওভার (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, ক্লার্কসন ৩/৯)।

নিউজিল্যান্ড : ১০৪/৪, ১১.৪ ওভার (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩, শরিফুল ৩/১৯)।

ফল : নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ।

ম্যাচ সেরা : বেভন জ্যাকবস (নিউজিল্যান্ড)।

সিরিজ সেরা : তাওহিদ হৃদয় (বাংলাদেশ)।