হৃদয়ের রেকর্ড ট্রিপল-সেঞ্চুরিতে ড্র করল বাংলাদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় সফরকারী ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়। এর আগে একমাত্র সফরকারী ব্যাটার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৪৮ সালে এমসিসির হয়ে ৩০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেনিস কম্পটন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
৩৫০ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়
৩৫০ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয় |সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দ্বিতীয় ও শেষ আনঅফিসিয়াল চারদিনের ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরির ইনিংসে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের জবাবে ম্যাচের শেষ দিন ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়।

১৬৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ম্যাচের শেষ দিন বিনা উইকেটে ১৮ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ম্যাচটি ড্র মেনে নেয় দুই দল। প্রথম আনঅফিসিয়াল চারদিনের ম্যাচ ইনিংস ও ৪১৩ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

পচেফস্ট্রুমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৪১ রানে পিছিয়ে ছিল হৃদয়ের দল। দিন শেষে হৃদয় ২০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে দ্রুত ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাইম হাসান ১৬ ও হাসান মুরাদ ১১ রানে আউট হন। ৫১৯ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর রেজাউর রহমান রেজাকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে দাপট দেখান হৃদয়।

৩৮১ বলে আড়াই শ’ রান পূর্ণ করেন হৃদয়। ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। ৪৫০ বলে তিন শ’তে পা রাখেন হৃদয়। এরপর দ্রুত রান তুলে মাত্র ৩১ বলে পরের পঞ্চাশ রান সংগ্রহ করেন হৃদয়। অর্থাৎ ৪৮১ বল খেলে ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কায় ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানে দলীয় ইনিংস ঘোষণা করেন হৃদয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আগেরটি ছিল ২১৭ রানের।

নবম উইকেটে রাজার সাথে ১৫৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। জুটিতে ১১০ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় অনবদ্য ৩১ রান করেন রাজা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাইল সিমন্ডস ২৩৯ রানে ৪ উইকেট নেন।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে তিন শ’ রানে ইনিংস খেললেন হৃদয়। এই ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন তিনি। সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বোর্ড প্রধান তামিম ইকবালের ৩৩৪ রানকে টপকে যান হৃদয়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে রেকর্ড ইনিংস খেলেন ইস্ট জোনের তামিম।

বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়। এর আগে রাকিবুল হাসান ৩১৩ ও তামিম ৩৩৪ রানের ইনিংস খেলেন।

দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। আগের সর্বোচ্চ রান ছিল সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার হোসেনের। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন শাহরিয়ার।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় সফরকারী ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়। এর আগে একমাত্র সফরকারী ব্যাটার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৪৮ সালে এমসিসির হয়ে ৩০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেনিস কম্পটন।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের নজির গড়েন হৃদয়। এ ক্ষেত্রে সবার ওপরে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার স্টিভেন কুক। ২০০৯ সালে লায়ন্সের হয়ে ৩৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কুক।

দিনের শেষভাগে ১২ ওভার ব্যাট করে বিনা উইকেটে ১৮ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ম্যাচটি ড্র মেনে নেয় দুই দল।

আগামী ৬ সেপ্টেম্বর থেকে তিন ম্যাচের আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল।