আসন্ন অ্যাশেজ সিরিজের এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে।
তবে সাদা পোশাকের দায়িত্ব ছাড়লেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন ম্যাককালাম। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্বে থাকবেন।
মাত্র তিন মাস আগেও ম্যাককালামের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছিলেন ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড। কিন্তু ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের পর সেই অবস্থান বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত টেস্ট দলের কোচিং অধ্যায়ের ইতি টানল ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।
দায়িত্ব হারানোর পর এক বিবৃতিতে ম্যাককালাম বলেন, ‘অবশ্যই আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি যে আর দায়িত্বে থাকছি না। তবে আমি এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। এখন আমার পুরো মনোযোগ থাকবে সাদা বলের দলগুলোকে নিয়ে ও ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চটা দেয়ার দিকে। টেস্ট দলের জন্য আমার শুভকামনা রইল।’
ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড বলেন, ‘ব্রেন্ডন ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। তার সময়ে আমরা অনেক স্মরণীয় জয় পেয়েছি এবং এজন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে আগামী অ্যাশেজকে সামনে রেখে এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি।’
২০২২ সালে টেস্ট দলের দায়িত্ব নেয়ার পর অধিনায়ক বেন স্টোকসকে সাথে নিয়ে আক্রমণাত্মক ‘বাজবল’ দর্শনের সূচনা করেন ম্যাককালাম। তার অধীনে প্রথম ১১ টেস্টের মধ্যে ১০টিতেই জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দল।
শেষ পর্যন্ত টেস্ট কোচ হিসেবে ম্যাককালামের পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ৪৯ ম্যাচে ২৭ জয়, ২ ড্র ও ২০ হার। শেষ ৯ টেস্টের মধ্যে ৭টিতেই পরাজিত হয়েছে ইংল্যান্ড। এ ছাড়া তার অধীনে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারতের বিপক্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি দল।
মজার বিষয়, ম্যাককালামের টেস্ট কোচিং যাত্রার শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে নিজ দেশ নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে। আর সেই অধ্যায়ের সমাপ্তিও হলো নিউজিল্যান্ডের কাছেই ঘরের মাঠে সিরিজ হারের মাধ্যমে।
এই সিরিজের পরই হঠাৎ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। ফলে বর্তমানে ইংল্যান্ডের টেস্ট দল কোচ ও অধিনায়ক—দুই গুরুত্বপূর্ণ পদেই নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
ইসিবি ইতোমধ্যেই নতুন টেস্ট কোচ খোঁজার কাজ শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, রিচার্ড ডসন, রায়ান ক্যাম্পবেল, জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং ইংল্যান্ডের সাবেক সফল কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার।
বিদায়ী বার্তায় ম্যাককালাম বলেন, ‘টেস্ট দলকে কোচিং করাটা আমি সত্যিই ভীষণ উপভোগ করেছি। আমরা একসাথে যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। অসাধারণ কিছু মুহূর্ত ছিল, কঠিন সময়ও এসেছে—তবে সেটাই এই যাত্রার অংশ।’
‘খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই ড্রেসিংরুমে অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। আমি সবসময় তাদের সমর্থন করব এবং আশা করি তারা একই সাহসী ক্রিকেট খেলেই দেশকে গর্বিত করবে।’



