রাজকীয় প্রত্যাবর্তন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। যেন ‘আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন’ টাইপ কিছু একটা। করলেন বাজিমাত, ব্যাটে-বলে দেখালেন নিজের সক্ষমতা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র শিরোপায় মিশে আছে মোসাদ্দেকের নাম। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ২৭ বলে ৫২ রান করে।
প্রায় ১০ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সেটিই ছিল তার সেরা ইনিংস। অবশেষে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিতে পারলেন তিনি, দেশের ক্রিকেটের আরো একটা ইতিহাস লিখলেন নিজের হাতে।
সেই ২০০৫ সাল। কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। অজিদের বিপক্ষে যা ছিল বাংলাদেশের একমাত্র স্মরণীয় জয়।
২১ বছর পর সেই ইতিহাস যেন নতুন করে গড়লেন মোসাদ্দেক। নিজের ফেরার ম্যাচে কার্ডিফকে ফেরালেন মিরপুরে। ঘরের মাঠে প্রথমবার তার নৈপুণ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে হারালো বাংলাদেশ।
দীর্ঘ চার বছর পর দলে ফিরে ব্যাট হাতে দলের বিপদের মুখে ৭০ বলে ৭ চার আর ৩ ছক্কায় খেলেন ৮৬ রানের হার না মানা ইনিংস। যা ওয়ানডে তো বটেই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই তার সেরা ইনিংস।
পরে বল হাতে ৩৭ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন। যেন বিজ্ঞ অলরাউন্ডার। অবশ্য এমনটাই প্রত্যাশা ছিল তার কাছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে পারফর্ম করছেন তিনি, এমন কিছু তার কাছে নিশ্চয়ই নতুন নয়।
সবমিলিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারটি উঠেছে ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের হাতে। ২০১৯ সালের সেই ফাইনালের পর জাতীয় দলের হয়ে আবারো এই পুরস্কার জিতলেন তিনি।
গত চার বছর জাতীয় দলে খেলতে না পারার আক্ষেপ নিশ্চয়ই আছে মোসাদ্দেকের, সেই আক্ষেপ এখন করছেন সমর্থকরাও। তাদের মনেও প্রশ্ন, এতোদিন কেন সুযোগ পেল না মোসাদ্দেক!
৬-৭ এ ব্যাট করবেন, সাথে করতে পারবেন বোলিং— এমন একজন ক্রিকেটারের খোঁজ বাংলাদেশ করছে অনেকদিন ধরেই। সর্বশেষ দুই সিরিজে সেই চেষ্টা করা হয় আফিফ হোসেনকে দিয়ে।
তবে তার ব্যর্থতার পর দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় বাংলাদেশের। অবশেষে নির্বাচকরা আস্থা রাখেন মোসাদ্দেকের ওপর। আর প্রথম ম্যাচেই অন্তত ব্যাট হাতে প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। এবার এই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার পালা।



