টেস্ট খেলার ধরন বদলাতে চায় বাংলাদেশ

তিনি বলেন, ‘আমি সাদমানকে বলব না তামিমের মতো খেলতে বা তামিমকে বলব না সাদমানের মতো খেলতে। আমাদের যে দুজন ওপেনার আছে, তাদের নিজস্ব স্টাইল আছে। আমি চাই না তারা সহজাত স্টাইলের বাইরে গিয়ে খেলুক।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ টেস্ট দল
বাংলাদেশ টেস্ট দল |ফাইল ছবি

বাজবলের মতো কিছু না হলেও টেস্টে খেলার ধরন পরিবর্তন করতে চায় বাংলাদেশ। তার জন্যই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তানজিদ হাসান তামিমকে। এমনটাই জানালেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের বাংলাদেশ স্কোয়াডে তানজিদের জায়গা পাওয়াটা বেশ কৌতূহল জাগানিয়া। সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ হলেও টেস্ট স্কোয়াডে প্রথমবার জায়গা পেয়েছেন তামিম।

সবশেষ সিরিজে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় বেশ ভালো করেছেন। এবার তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন তানজিদ তামিম। টেস্টেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যোগ করতেই তার অন্তর্ভুক্তি।

দল ঘোষণার পর দিন সোমবার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক নিজেই জানালে প্রসঙ্গটি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে দলের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে তিনি শোনালেন খেলার ধরন বদলের ভাবনা।

তিনি বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত খুব একটা গর্ব করে বলতে পারব না যে আমরা খুব ভালো খেলেছি। আমাদের পরিকল্পনা, এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যেন ভালো করতে পারি।’

‘আগে আমরা খুব একটা ভালো করিনি, সেখান থেকে যেন নিজেদেরকে আরেকটু ওপরের দিকে নিয়ে আসতে পারি। সেটা করার জন্য হয়তো আমরা ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারি। একটু আগ্রাসী ক্রিকেটের দিকেও যেতে পারি।’

‘আপনারা দেখেছেন নতুন ওপেনার নিয়েছি, সেটা এই পরিকল্পনার অংশ। আমাদের বোলিং বিভাগ ভালো। ২০ উইকেট নেয়ার সামর্থ্য আছে। ব্যাটিংয়ে যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো হতে পারি, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ভালো করবে।’

তবে লাল বলে আগ্রাসী মেজাজকে ইংল্যান্ড দল ডেকে থাকে ‘বাজবল’ নামে। বাংলাদেশ অবশ্য বাজবলের মতো করে নয়, খেলতে চায় নিজেদের মতো করে। সুমন এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাজবল’ বলছি না, তবে স্টাইলটা পরিবর্তন হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যখন কোনো ক্রিকেটার বাছাই করছি, তার খেলার ধরন দেখে নির্বাচন করছি। যাকে যেটা দেখে দলে নিয়েছি, আমরা চাচ্ছি সে ওই ধরনের ক্রিকেটই খেলুক। আমাদের খেলা কেমন হবে, আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব।’

‘তবে এটা আমাদের পরিকল্পনা যে, আমরা এমন ক্রিকেট খেলতে পারি। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাইলে ওই ধরনের ক্রিকেটার লাগে। এটা পরিকল্পনার অংশ।’

সীমিত ওভারে তানজিদ যথেষ্টই আক্রমণাত্মক ক্রিকেটার। সেই সহজাত ধরন ধরে রাখেন তিনি দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও। ৬ বছরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যদিও তিনি ম্যাচ খেলেছেন মোটে ২৫টি। তবে রেকর্ড বাংলাদেশের বাস্তবতায় খারাপ নয়।

৫ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটি করেছেন, ব্যাটিং গড় ৪০.৭২। তবে নজর কাড়ার মতো ব্যাপার তার স্ট্রাইক রেট, ৭৭.৬৭! এই সংস্করণে ৪১টি ছক্কা মেরেছেন এই অল্প কয়েক ম্যাচেই।

তবে তানজিদকে নেয়া মানেই সাদমান ও জয়কে কোনো বার্তা দেয়া নয় বলেই জানালেন প্রধান নির্বাচক। তাদেরকে নিজেদের মতো করেই খেলতে বললেন প্রধান নির্বাচক।

তিনি বলেন, ‘আমি সাদমানকে বলব না তামিমের মতো খেলতে বা তামিমকে বলব না সাদমানের মতো খেলতে। আমাদের যে দুজন ওপেনার আছে, তাদের নিজস্ব স্টাইল আছে। আমি চাই না তারা সহজাত স্টাইলের বাইরে গিয়ে খেলুক।’

উল্লেখ্য, মিরপুরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু আগামী ৮ মে থেকে। পরের ম্যাচ সিলেটে আগামী ১৬ মে। আর পাকিস্তান দল ঢাকায় আসবে আগামী রোববার।