পাকিস্তানকে হারাতে কত রান প্রয়োজন বাংলাদেশের

সকাল সকাল দুই ওপেনারের বিদায়ে যে ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ, তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ব্যাটে স্বস্তি ফিরেছে টাইগার শিবিরে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংগৃহীত

সকাল সকাল দুই ওপেনারের বিদায়ে যে ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ, তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ব্যাটে স্বস্তি ফিরেছে টাইগার শিবিরে।

সোমবার (১১ মে) মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ দল ৩১ ওভারে দুই উইকেট ৯৩ রান নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে গেছে। ২৭ রানের লিডসহ বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১২০ রানে।

শুরুতেই মাহমুদুল হাসান (৫) ও সাদমান (১০) ফেরার পর তৃতীয় উইকেটে এসেছে ১২২ বলে ৭০ রান। যেখানে ৮২ বলে ৩৭ রানে খেলছেন মুমিনুল। ৫৭ বলে ৩৪ রানে ব‍্যাট করছেন শান্ত।

এ জুটিতেই বড় পুঁজির স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। যদিও মধ্যাহ্নভোজের ৪০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও এখনো বাংলাদেশ দল মাঠে নামতে পারেনি, মিরপুরের আকাশ কালো হয়ে বৃষ্টি নেমেছে।

বৃষ্টির পর এই লিড আরো বড় করতে হবে। কতোটা বড় করতে হবে, তার আভাস গতকালই দিয়েছেন মেহেদী মিরাজ। ২৯০ থেকে ৩০০ রান করতে পারলে জিততে পারবে বাংলাদেশ, এমনটাই বিশ্বাস তার। পরিসংখ্যান মিরাজের হয়েই কথা বলছে।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, মিরপুরে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে কখনো জিততে পারেনি।

২০১০ সালে এই রান তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। এর বাইরে দেড়শ-এর বেশি রান তাড়া হয়েছে মাত্র একবার। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০৫ রান করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

সর্বশেষ তিনবার চতুর্থ ইনিংসে যথাক্রমে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ১৩৮, বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ১৩৯ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ১০৯ রান করেই জিতে গেছে মিরপুরে।

অর্থাৎ শেষ দেড় যুগে মিরপুরে দেড়শ-এর বেশি তাড়া করে জিতেনি কোনো দল। তবে এবারের গল্পটা ভিন্ন হতে পারে। কেননা মিরপুরের উইকেটের চিত্র এবার অনেকটাই বদলে গেছে।

চিরাচরিত স্পিনিং ট্র্যাক থেকে বের হয়ে এবার স্পোর্টিং উইকেট সাজানো হয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। যার সুফল মিলেছে প্রথম ইনিংসে। বাংলাদেশের ৪১৩ রানের বিপরীতে ৩৮৬ রান তুলেছে পাকিস্তান।

তবে আশার কথা হলো, উইকেটে বোলারদের জন‍্য সহায়তা ক্রমেই বাড়ছে। এখনি অসমান বাউন্স কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছে ব‍্যাটসম‍্যানদের। চোয়ালবদ্ধ হয়ে মাটি কামড়ে খেলতে হচ্ছে।

এমতাবস্থায় চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা বেশ কঠিন হতে পারে। পাকিস্তানকে ভুগতে হতে পারে। তবে তার আগে নিজেদের স্কোরবোর্ডে তো লড়াই করার পুঁজি আনতে হবে। সেই চেষ্টাতেই অবশ্য আছেন শান্ত-মুমিনুল।