তৃপ্তির এক সেরা জয় পেল বাংলাদেশ

চ্যালেঞ্জ হেসেখেলেই উড়িয়ে দেন তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ ইমনরা। শামীম পাটোয়ারী ছিলেন আরো অনবদ্য। তাদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২ ওভার হাতে রেখেই ম্যাচটা জিতে বাংলাদেশ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে টাইগাররা
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে টাইগাররা |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের পিচে রানের দেখা পেলেও বাংলাদেশের তৃপ্তির এক সেরা জয়ে হেরে গেছে নিউজিল্যান্ড। ৬ উইকেটে দলটি তোলে ১৮২ রান। হতে পারতো আরো বেশি, মাঝের দিকে রিশাদ হোসেন-শেখ মেহেদী মিলে চেপে ধরায় রক্ষা।

১৮৩ রানের লক্ষ্য- হয়তো অতবড় নয়, তবে নেহায়েত মন্দ নয়। ঘরের মাঠে এতো রান তাড়া করে আগে জেতেনি কখনো টাইগাররা। ফলে জিততে হলে গড়তে হত নতুন রেকর্ড।

গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭০ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। এতদিন ঘরের মাটিতে এটাই ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

সবমিলিয়ে এটি রান তাড়ায় বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা জয়। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ।

এছাড়া জিম্বাবুয়ের মাটিতে ২০২১ সালে ১৯৪ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ যেভাবে জিতেছে গতকাল, তা আমাদের জন্য বিরল ঘটনাই বটে।

ব্যাট করতে নেমে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। ১০.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ৭৭ রান। বাকি ৫৯ বলে করতে হতো আরো ১০৬ রান। যা একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল বটে।

তবে চ্যালেঞ্জ হেসেখেলেই উড়িয়ে দেন তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ ইমনরা। শামীম পাটোয়ারী ছিলেন আরো অনবদ্য। তাদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২ ওভার হাতে রেখেই ম্যাচটা জিতে বাংলাদেশ।

প্রথমে ২৮ বলে ৫৭ রানের বিধ্বংসী এক জুটি গড়েন হৃদয় ও ইমন। ১৪ বলে ২৮ রান নিয়ে ইমন বিদায় নিলে ভাঙে জুটি। তবে পরের জুটিতে তাণ্ডব চলে আরো বেশি।

হৃদয়ের সাথে শামীমের জুটি থেকে আসে ২১ বলে অবিচ্ছেদ্য ৪৯ রান। শামীম অপরাজিত থাকে ১৩ বলে ৩১ রানে, ২৭ বলে ৫১ রান করেন হৃদয়। আর ১০ ওভারের রান ৮ ওভারে তুলে ফেলে দল।

রান তাড়ায় নামার পর ইনিংসের মধ্যবর্তী ওভারগুলোতে (৭–১৬) ওভার প্রতি ১০.৯ রান তুলে মোট ১০৯ রান করেছেন, যা টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।

ওয়ানডে সিরিজ জিতে এমনিতেই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না। তবে ১৪৬ দিন পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নামার চ্যালেঞ্জ তো ছিলই।

যে চ্যালেঞ্জ ব্যাটিং-বোলিং উভয়দিক থেকেই শুরুতে খানিকটা ভুগিয়েছে দলকে। ব্যাটিংয়ে যেমন টপ অর্ডার রান পায়নি, বোলিংয়েও টাইগারদের ছন্দ খুঁজে পেতে সময় লেগেছে।

৯.৩ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৯৯ রান তুলে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। থিতু হয়ে যাওয়া ক্লার্ক ও ক্লেভার— দুজনে মিলে টাইগার বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনা করছিলেন।

এক পর্যায়ে যখন মনে হচ্ছিল ২০০ এর বেশি করবে কিউইরা। ঠিক তখন টাইগার শিবির স্বস্তি এনে দেন রিশাদ হোসেন। টানা দুই ওভারে সেট দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন এই লেগ স্পিনার।

নবম ওভারের চতুর্থ বলে ২৮ বলে ৫১ রান করা ক্লেভারকে ফিরিয়ে ভাঙেন ৫০ বলে ৮৮ রানের জুটি ভাঙেন রিশাদ। এক ওভার পর আবার বল হাতে নিয়ে ফেরান ক্লার্ককে (৩৭ বলে ৫১)।

এই দুই উইকেটই ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরায়। রিশাদকে দারুণ সঙ্গ দেন শেখ মেহেদী। ডিন ফক্সক্রফ্টকে আটকে দেন তিনি৷ রিশাদ ৩২ রানে ২ ও মেহেদী ৩১ রানে নেন ১ উইকেট।