ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে টানা দুই হারের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তৃতীয় টেস্টের আগেই সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বদল এসেছে কোচিং স্টাফেও।
এমন সিদ্ধান্তের পর এবার দল নির্বাচনের দায় স্বীকার করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিব জাভেদ। তবে মাঝ সিরিজে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না আকিব।
তার মতে, ১৭ সদস্যের দলটি মেধা ও আগের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেই নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সফরে খেলোয়াড়রা যদি বারবার নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করতে না পারেন, তাহলে শুধু তারকা বা অভিজ্ঞ হওয়ার কারণে কেউ জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারেন না।
জিও নিউজের ‘শাহজেব খাজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে আকিব জাভেদ বলেন, ‘১৭ জনের দল নির্বাচন করা নির্বাচকদের কাজ। কিন্তু সেই ১৭ জনের মধ্য থেকে কোন ম্যাচে কোন একাদশ খেলবে, সেটি অধিনায়ক ও প্রধান কোচের সিদ্ধান্ত।’
দল নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি আরো বলেন, ’আমি নির্বাচক কমিটির একজন সদস্য। তাই নির্বাচিত ১৭ জনের দায় আমি নিচ্ছি। তবে একাদশ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আমার একার ছিল না।’
প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আকিব বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলেছি, সেটি আমাদের সামর্থ্যের প্রতিফলন নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে খেলোয়াড়দেরই পারফর্ম করতে হয়।’
মাঝ সিরিজে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। আকিবের ভাষায়, ‘সিরিজ যখন ২-০ হয়ে গেছে, তখন নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেয়ার এটাই সঠিক সময়। আমরা দেখতে চাই পাকিস্তানের যে প্রতিভাগুলো আছে, তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কী করতে পারে।’
নতুন করে দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে তার বার্তাও ছিল স্পষ্ট। ‘তাদের কাছে আমাদের বার্তা খুব পরিষ্কার- পারফরম্যান্স এবং প্রচেষ্টার সাথে কোনো আপস করা যাবে না।’
তবে দল নির্বাচনের ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি নির্বাচকদের ওপর চাপাতে রাজি নন আকিব। তার মতে, স্কোয়াড তৈরি করা এবং সেই স্কোয়াড থেকে একাদশ বেছে নেয়া- দু’টি আলাদা বিষয়।
ইমাম-উল-হকের চোট নিয়ে অবশ্য কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন এই নির্বাচক। দ্বিতীয় টেস্টে পেশির টানের কারণে দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি ইমাম। কিন্তু পরে তাকে নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে আকিব বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় মাংসপেশির টানের কারণে একটি টেস্টে ব্যাট করতে পারবে না- এটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন।’ ইমামের চোটের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি
তার বক্তব্য, চোটের বিষয়টি কিভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং কেন একজন খেলোয়াড় ম্যাচে ব্যাট করতে পারলেন না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের কোচিং নিয়েও কথা বলেছেন আকিব। তার মতে, একজন কোচকে শুধু ম্যাচের ফল দিয়ে বিচার করলে হবে না। খেলোয়াড়দের পাওয়া রিসোর্স কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং দলকে কিভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে আকিব জাভেদের বিরুদ্ধে সাবেক পাকিস্তান কোচ জেসন গিলেস্পির করা অভিযোগ নিয়েও কথা উঠেছে। গিলেস্পির দাবি ছিল, আকিব কোচিং স্টাফের কাজে হস্তক্ষেপ করতেন ও ধীরে ধীরে দলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এমনকি তার অভিযোগ, আকিবের লক্ষ্য ছিল শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেয়া। তবে গিলেস্পির সেই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আকিব। তিনি বলেন, জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার কোনো আগ্রহই তার নেই।
পিসিবির নির্দেশেই তিনি সাময়িকভাবে দলের সাথে কাজ করছেন। আকিবের দাবি, গিলেস্পির অভিযোগের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
তবে সবকিছুর বাইরে পাকিস্তান ক্রিকেটের আসল সমস্যা কোথায়- সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন আকিব। তার মতে, সমস্যাটা শুধু চেয়ারম্যান, কোচ কিংবা নির্বাচক পরিবর্তনের নয়। ‘আমাদের আসল সমস্যা হলো খেলোয়াড়দের মান।’
তিনি মনে করেন, একজন নির্বাচক কিংবা কোচের পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের নিজেদের উন্নতি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানোর মতো মান তৈরি করতে হবে।
এদিকে দল নির্বাচনের ব্যাখ্যা চেয়ে আকিব জাভেদ, মিসবাহ-উল-হক ও আসাদ শফিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলেছে পিসিবি। এর মাঝেই আবার নির্বাচক কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবাহ-উল-হক।



