চট্টগ্রামে পুলিশের হেনস্তায় ক্ষুব্ধ ক্রিকেটার নাঈম হাসান

খুলশি থানা থেকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজিতে করে আসছিলাম। ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে লালখান বাজারের দিকে সিএনজি দাঁড় করায় পুলিশ। আমি বের হয়ে দাঁড়াই। বললাম ব্যাগ চেক করেন। তবে ওই পুলিশ সদস্য আমাকে বলে, তুই গাড়িতে ওঠ, তুই আসামি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাঈম হাসান
নাঈম হাসান |সংগৃহীত

পুলিশের হেনস্থা ও হয়রানির শিকার জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় তাকে, স্বীকার হয়েছেন মারধরেরও।

শুক্রবার শেষ হয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসর। যেখানে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলেছেন জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসান। খেলা শেষে রাতেই ফিরছিলেন বাড়িতে। তবে যাত্রাপথে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন তিনি।

চট্টগ্রামে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে লালখান বাজারে ফ্লাইওভারের নিচে ডিবি পরিচয়ে তাকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন এই স্পিনার। এতটাই হেনস্থার শিকার হয়েছেন যে ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে দেন তিনি।

নাঈম জানান, নিজের পরিচয় দেয়ার পরও কোনো কারণ ছাড়াই থানার এক এসআই তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে ওসির কক্ষে নেয়া হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

খুলশি থানা থেকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার বলেন, ‘এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজিতে করে আসছিলাম। ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে লালখান বাজারের দিকে সিএনজি দাঁড় করায় পুলিশ। আমি বের হয়ে দাঁড়াই। বললাম ব্যাগ চেক করেন। তবে ওই পুলিশ সদস্য আমাকে বলে, তুই গাড়িতে ওঠ, তুই আসামি। এরপর গলা চিপে ধরে আমাকে সিএনজিতে উঠাইছে। আমি বের হওয়ার চেষ্টা করলে দু’জন আমাকে চেপে ধরে আরেকজন মারধর করতে থাকে পাইপ দিয়ে। দু’জন পুলিশ ও একজন পাঞ্জাবি পরা কেউ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ওখানে এক পর্যায়ে প্রায় শ’খানেক লোক জড়ো হয়েছিল, তারা আমার পরিচয় দিলেও ওরা মারতেই থাকে। আমি পরিচয় দিয়েছি, কোনো কাজ হয়নি। এমনকি থানায় নেয়ার পর খুলশি থানার ওসিও বাজে ব্যবহার করেছেন বলে জানান নাঈম।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে থানায় আনার পর ওসি বললেন, চোখ নামায় রাখ। এরপর ওনার ফোনে একটা কল আসে, তারপর বলে তুমি বসো। ওসি এসআই শফিকসহ বাকি দু’জনকে সরিয়ে দিয়েছে।’

এই ঘটনা বিসিবি সভাপতি তামিক ইকবালকেও জানিয়েছেন নাঈম। তিনি বলেন, ‘ওরা তো আমার মোবাইল রেখে দিছিল। থানায় আসার পর মোবাইল পেয়ে তামিম ভাইকে কল দিছি। এরপর খসরু (বিসিবি পরিচালক ঈসরাফিল খসরু) ভাই কল দিছিলেন আমাকে। উনি ওসির সাথে কথা বলছে। এরপর হাসপাতালে গিয়ে রিপোর্ট আনছি। এটা বিচার হবে তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছে।’

এদিকে ঘটনার পরপর খুলশি থানায় অবস্থান করছেন নাঈমের বাবা মাহবুব আলম। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর। তিনি বলেন, ‘ও যখন আমাকে কল দেয় যে ওকে পুলিশে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি চিন্তা করলাম জাতীয় দলের খেলোয়াড়কে কেনো পুলিশে ধরবে! ওকে যখন পুলিশ হ্যারেস করছে। তাই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে। এটা যতক্ষণ না হবে আমরা থানা ছাড়বো না।’