তামিমের বিসিবিতে আসার টার্নিং পয়েন্ট ‘হার্ট অ্যাটাক’

‘সত্যি বলতে, গত বছরের হার্ট অ্যাটাকটাই ছিল আমার জীবনের সেই ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তখন আমি জাতীয় দলে ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। ঠিক ওই মুহূর্তে যখন আমার হার্ট অ্যাটাক হলো, আমি ভাবলাম ব্যাস, অনেক হয়েছে, আর নয়।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তামিম ইকবাল
তামিম ইকবাল |ফাইল ছবি

গত বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ চলাকালীন মাঠেই আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন তামিম ইকবাল। জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছে যান দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার।

উন্নত চিকিৎসায় সে যাত্রা সুস্থ হয়ে উঠলেও, সাবেক এই অধিনায়ক আর কখনোই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরেননি। তবে ক্রিকেটকে ছাড়েননি, পুরোপুরি সাংগঠনিক রূপে ফিরেছেন তিনি।

মাঠের খেলা ছেড়ে তিনি এখন বোর্ডরুমের নীতিনির্ধারকের দায়িত্বে। সামলাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে সভাপতির আসন। অর্থাৎ মাঠের ক্রিকেট থেকে ক্রিকেটের প্রশাসনে আসার পেছনে বড় কারণ হার্ট অ্যাটাক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তামিম নিজেও। সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম জানালেন, কিভাবে হঠাৎ একটি হার্ট অ্যাটাক তাকে ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে ঠেলে দিলো।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, গত বছরের হার্ট অ্যাটাকটাই ছিল আমার জীবনের সেই ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তখন আমি জাতীয় দলে ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। ঠিক ওই মুহূর্তে যখন আমার হার্ট অ্যাটাক হলো, আমি ভাবলাম ব্যাস, অনেক হয়েছে, আর নয়।’

‘হার্ট অ্যাটাকের পর আমার মনে হয়েছে ক্রিকেটে ফেরার জন্য এতটা ঝুঁকি নেয়া আর ঠিক হবে না। আমি যদি ফিরতামও, বড়জোর আর এক বা দুই বছর খেলতে পারতাম। আমার পরিবারে সন্তানরা এখনো অনেক ছোট, আর শরীরটাও হয়তো ক্রিকেটে ফেরার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।’

বাইশ গজের চিরচেনা সবুজ মাঠ ছেড়ে বিসিবির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বোর্ডরুমে মানিয়ে নেয়াটা যে মোটেও সহজ নয়, তা অকপটেই স্বীকার করলেন তামিম ইকবাল। তবে ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, দেশের ক্রিকেটে নানাবিধ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই তিনি এই কঠিন চ্যালেঞ্জ বেছে নিয়েছেন।

তামিম বলেন, ‘ভীষণ, ভীষণ আলাদা! তবে আমি তো এটাই চেয়েছিলাম। আমি ভেতরের সমস্যাগুলো ঠিক করতে চেয়েছিলাম। গত ১৭-১৮ বছর ধরে যখন আমি সতীর্থদের সাথে খেলতাম, খেলোয়াড় হিসেবে আমরা যেসব জিনিস নিয়ে সবসময় অভিযোগ করতাম।’

‘আমি ঠিক সেই সমস্যাগুলোই সমাধান করতে চাই, যেন বর্তমান ও ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের মনে আর কোনো ক্ষোভ না থাকে। আমি খুব ভালো করেই জানি, একা আমার পক্ষে সব কিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আমি এটুকু নিশ্চিত যে, অন্তত সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মান উন্নত করার জন্য যতটুকু করা দরকার, তা আমি করতে পারব।’

তামিম আরো বলেন, ‘ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং—এগুলো এখন আর আমার কাজ নয়। আমি এখন আর মাঠে নেমে ব্যাট করতে পারব না, বলও করতে পারব না। তবে আমি এটুকু নিশ্চিত যে, ক্রিকেটারদের জন্য সম্ভাব্য সেরা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা আমি করে দিতে পারব; যা তাদের পারফরম্যান্সকে অন্তত দুই, তিন কিংবা পাঁচ শতাংশ হলেও উন্নত করতে সাহায্য করবে। আমার লক্ষ্য এখন ঠিক এটাই।’