ইতিহাস বদলের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছাড়ল শান্তরা, লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া

সিরিজ শুরুর আগে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে আগেভাগেই অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় দেশ ছাড়েন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক, ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসানসহ কয়েকজন ক্রিকেটার।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অস্ট্রেলিয়ার পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল
অস্ট্রেলিয়ার পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল |নয়া দিগন্ত অনলাইন

অবশেষে প্রায় দুই যুগের অপেক্ষার অবসান হলো। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে গতি, বাউন্স আর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। সব মিলিয়ে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে সফরকারীদের।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে দলের প্রথম বহর।

প্রথম দফায় দেশ ছাড়েন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক, ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসানসহ কয়েকজন ক্রিকেটার।

তাদের সাথে রয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ এবং সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরা। দলের বাকি সদস্যরা পৃথক ফ্লাইটে পরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যোগ দেবেন।

সিরিজ শুরুর আগে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে আগেভাগেই অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ওভালে, আর দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হবে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সফর ছিল ২০০৩ সালে। ডারউইনের সেই ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয়েছিল টাইগারদের। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৩ বছর। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় আর কোনো টেস্ট খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। ফলে বর্তমান দলের প্রায় সব ক্রিকেটারের জন্যই এটি নতুন অভিজ্ঞতা।

তবে এবারের বাংলাদেশ দল ভিন্ন মানসিকতা নিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশের মাটিতে উন্নত পারফরম্যান্স, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো কঠিন কন্ডিশনে সাফল্য আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে শান্তদের।

সফরের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘ডারউইনের কন্ডিশন সম্পর্কে খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকলেও দলের বিশ্লেষকরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছেন।’

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যাওয়াকে বিশেষ সৌভাগ্য উল্লেখ করে শান্ত বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের। গত ২৩ বছরে আমাদের সেখানে আরো বেশি টেস্ট খেলা উচিত ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য থাকবে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করা। যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে তারা আমাদের আরো বেশি টেস্ট সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ জানাবে।’

বাংলাদেশের জন্য এই সফর শুধু একটি টেস্ট সিরিজ নয়, বরং নিজেদের সক্ষমতার নতুন প্রমাণ দেয়ার মঞ্চ। ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষে শান্তদের সামনে সুযোগ—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন ইতিহাস লেখার।