দেশে ফিরতে চান সাকিব, চান নিরাপত্তা

‘আর যদি তারা মনে করে, আমি কানাডায় বসে ফোনে ফোনে দুনিয়ার বিশাল একটা মাফিয়া গোষ্ঠী নিয়ে বিশাল একটা ইয়ে করেছি, সেটা যদি তারা প্রমাণ দেখায়, তাহলে ঠিক আছে, বিচার করুক! সদিচ্ছা থাকলেই সব হয়।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান |ফাইল ছবি

আশ্বাসেও মন গলছে না সাকিব আল হাসানের। এখনো নিরাপত্তা শঙ্কায় তিনি। ফলে দেশে ফিরতে চাইলেও ফেরা হচ্ছে না তার। তবে নিরাপত্তা পেলে দেরি করতে চান না সাকিব, প্রয়োজনে মামলা লড়তেও প্রস্তুত তিনি।

ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম’-এর উদ্বোধনী ইভেন্ট ছিল সম্প্রতি মুম্বাইয়ে। সেই আয়োজনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন রয়্যাল ব্রাসেলস দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

যেখান থেকে বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যমকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সাকিব। যেখানে অনেক কথার ভিড়ে ছিল তার দেশে ফেরার আগ্রহের কথাও। জানান- একটু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলেই দেশে ফিরবেন তিনি।

দেশে ফেরার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘আমি ফিরব, আশা করি তাড়াতাড়িই ফিরতে পারব। ফিরে কোর্টে যাব, মামলা লড়ব। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে! এতটুক তো আশা করতেই পারি।’

‘আমি তো বলছি না যে, নিরাপত্তা মানে আমার জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে বা পুলিশের চারটা গাড়ি সামনে থাকবে। ওরকম তো চাচ্ছি না। আইনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি করবে না। ব্যাস, এতটুকুই আশা করি।’

‘সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তো এটুকু আশা করতে পারি। হয়রানি না করার নিশ্চয়তা যদি কালকে দেয়া হয়, পরশুই দেশে যাব আমি।’ যোগ করেন সাকিব আল হাসান।

সাকিবের দেশে ফেরার পথে বড় বাধা আইনি জটিলতা। ২০২৪ আগস্টের পর সাকিবের নামে হত্যা মামলার পাশাপাশি দুর্নীতি ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির খবরও প্রকাশিত হয়। যার জেরে তার ওপর আছে গ্রেফতারি পরোয়ানাও।

এই নিয়ে সাকিবের ভাবনা- ‘এই জিনিসগুলা দেখি মাঝেমাঝে নিউজে আসে, কিন্তু কেউ বিস্তারিত বলতে পারে না। কথার কথা, কেউ বলল যে, “শেয়ার মার্কেটের কারসাজি আছে।” তো সেটা কী? দুই বছর ধরে কেউ কিছু প্রমাণ করতে পেরেছে?

রাজনৈতিক মামলা একটা আছে, হত্যা মামলা। সেটাও তো দেড় বছরে কিছু এগোয়নি! আর একটা চেক বাউন্সের মামলা আছে, সেটা একদম বেসিক জিনিস, যদি আপনি ইনস্টলমেন্ট না দিতে পারেন, সাইন করা যে চেকগুলো থাকে, ওটা নিয়ে ব্যাংক মামলা করে।

সেটা খুবই নরম্যাল ব্যাপার এবং এটা রিশিডিউলও করা যায়, টাকা দিলে সেই মামলা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমি যে সেটা করব, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রেখেছে ফ্রিজ করে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ কেন? হয়তো তাদের মনে হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ফ্রিজ করা দরকার।’

এখন তো দেড় বছর হয়ে গেল সেই তদন্ত! কিছুই তো এখনো পর্যন্ত পায়নি! আমার বিশ্বাস, কিছুই পাওয়ার কোনো চান্স নাই। আমার অ্যাকাউন্ট ওপেন হয়ে গেলে রিশিডিউল করে আমি কালকেই এটা জমা দিয়ে দিলে পরশুদিন ওরা মামলা তুলে নেবে!

লোকের কথা শুনলে মনে হয় যে, আমার কয়েক হাজার সমস্যা এবং সমস্যা সমাধান করতে কয়েক দশক লেগে যাবে। আসলে ইচ্ছে থাকলে কতদিন লাগতে পারে? তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে অ্যাকশন নিন। তদন্তে কিছু না পেলে ক্লিয়ারেন্স দিন, রিলিজ দিন।

হত্যা মামলাটিও এখন সাধারণ অবস্থায় আছে। আইন মন্ত্রণালয় অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কাছে একটা নির্দেশনা যাবে যে, মামলাটিতে তার যোগসূত্রতা আছে নাকি নাই। যেহেতু এখনো চার্জশিট হয়নি, আমার যোগসূত্রতা না পেলে ছেড়ে দেবে।

যেখানকার ঘটনায় মামলা, সেই আদাবরে তো জীবনেও গিয়েছি বলে মনে পড়ে না। আমার সম্পৃক্ততা যদি না থাকে, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিতে পারে যে, এটাতে তার যোগসূত্র নাই। এটার জন্য কতদিন লাগতে পারে? দুই বছর হতে চলেছে!

আর যদি তারা মনে করে, আমি কানাডায় বসে ফোনে ফোনে দুনিয়ার বিশাল একটা মাফিয়া গোষ্ঠী নিয়ে বিশাল একটা ইয়ে করেছি, সেটা যদি তারা প্রমাণ দেখায়, তাহলে ঠিক আছে, বিচার করুক! সদিচ্ছা থাকলেই সব হয়।

দুদকের মামলায় জামিন নিতে পারি। কিন্তু দুদকের এরকম মামলা তো দেশে হাজার হাজার মানুষের আছে এবং তারা দেশে খুব ভালোভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ব্যবসা করছে, সবই করছে।’