আগামী মাসের এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় আবাসন সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, সব অংশগ্রহণকারীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে শুরুতে প্রায় ১৫ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার অংশ নেয়ার কথা ছিল।
এই সংখ্যা অলিম্পিক গেমসের চেয়েও বেশি। তবে গত সপ্তাহে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ এবং ছয় হাজার কর্মকর্তা।
এবার কোনো আলাদা অ্যাথলেট ভিলেজ থাকছে না। এর পরিবর্তে আয়োজকরা একটি ক্রুজ জাহাজ, অস্থায়ী কাঠের কনটেইনার এবং বিভিন্ন হোটেলের ওপর নির্ভর করছেন।
মার্চে ওসিএ এশিয়ান গেমসের ক্রীড়া সূচিতে টেকবল ও প্যাডেল যুক্ত করে।
আইচি প্রিফেকচারের গভর্নর এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি হিদেয়াকি ওমুরা চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে তাদের ‘জনবল কিংবা বাজেট, কোনোটিই নেই’।
তিনি বলেছিলেন, ‘তারা যদি তারপরও আসতে চান, তাহলে তাদের নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে।’
তবে আয়োজক কমিটি ও ওসিএর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জুলাইয়ে নাম নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এশিয়ান গেমসে নিবন্ধিত ১৭ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার প্রত্যেকের জন্য গেমস-উপযোগী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া নতুন করে কোনো নিবন্ধন করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও করা হবে না।’
অন্যদিকে শুধু আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ‘প্রতিদিনই পরিবর্তিত হচ্ছে’ এবং এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তারা স্বীকার করেছে, ‘এখন ধারণা করা হচ্ছে যে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।’
খরচ কমাতে আয়োজকরা অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ কোস্টা সেরেনা ভাড়া করা হয়েছে।
জাহাজটিতে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার ক্রীড়াবিদ থাকবেন। আরো প্রায় দুই হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা শিপিং কনটেইনারের মতো দেখতে তৈরি অস্থায়ী কক্ষে থাকবেন।
বাকি অংশগ্রহণকারীদের হোটেলে রাখা হবে। এর মধ্যে টোকিওর হোটেলও রয়েছে, কারণ সাঁতার, ডাইভিং ও অশ্বারোহণের মতো কিছু ইভেন্ট টোকিওতে অনুষ্ঠিত হবে।
অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন প্রতিবেদনও নাকচ করেছে স্থানীয় আয়োজক কমিটি।
তারা জানিয়েছে, এর পরিবর্তে ‘কিছু দলের কর্মকর্তা নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা করবেন’।
জাপানের টাইফুন মৌসুম সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে তীব্র থাকলেও এর কারণে পরিকল্পনা ব্যাহত হবে না বলে আত্মবিশ্বাসী কর্মকর্তারা।
আয়োজক কমিটি ও ওসিএর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চূড়ান্ত প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং মসৃণভাবে চলছে। প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে জমকালো এশিয়ান গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে।’ বাসস



