মাওলানা আব্দুল হালিম

আলেমদের সম্মান রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বি. এম. মফিজুর রহমান আজহারী। এতে সভাপতিত্ব করেন ড. মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার। অনুষ্ঠানে আলেম-উলামা, গবেষক, শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বক্তব্য প্রদান করছেন মাওলানা আব্দুল হালিম
বক্তব্য প্রদান করছেন মাওলানা আব্দুল হালিম |ছবি : নয়া দিগন্ত

উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য বিরোধী শক্তিকেই শক্তিশালী করে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সব ধারার ওলামায়ে কেরামের প্রতি সম্মান ও সৌজন্য বজায় রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তালিমুল কোরআন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর কাঁটাবন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির কাঁটাবন মসজিদ কমপ্লেক্সে ওলামা বিভাগ, ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইসমাতে আম্বিয়া ও আদালাতে সাহাবাহ: একটি ইলমী পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, উম্মাহর মাঝে কোনো অনৈক্য থাকলে তা কেবল বিরোধী শক্তিকেই আনন্দিত ও সফল করে। তিনি বিভিন্ন দরবারের আলেমদের সাথে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সব মতের ওলামায়ে কেরামের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ বজায় রাখা ইসলামের শিক্ষা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ১৫ বছরের কারাবরণ এবং কোনো প্রলোভনে পা না দিয়ে দ্বীনের পথে অবিচল থাকার বিষয়টি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। একইসাথে আল্লামা আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ওপর নির্যাতনের সময় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শহীদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সঙ্কটকালে আলেমদের পাশে ছিল, তাদের কেন শত্রু ভাবা হবে—এ প্রশ্নের উত্তর সমাজের কাছে রয়েছে।

প্রধান অতিথি বলেন, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের প্রতিটি শিক্ষা শিবিরে সাহাবায়ে কেরামের জীবন, তাদের ত্যাগ এবং ‘ইসমাতুল আম্বিয়া’ (নবীদের নিষ্পাপতা) বিষয়ে গভীর আলোচনা করা হয়। সাহাবিদের অন্তরের ঈমানই ছিল তাদের প্রকৃত সৌন্দর্য এবং সেই ত্যাগের চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংসদে কোরআন-সুন্নাহর সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে দাড়ি-টুপি-পাগড়ি পরিহিত আলেমদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব আলেমকে সাথে নিয়ে জাতীয় সংসদকে একটি আদর্শ ইসলামী সংসদে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।

মাওলানা আব্দুল হালিম আরো বলেন, যারা অপপ্রচার চালায় যে জামায়াত শরীয়াহ চায় না, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যই বড় প্রমাণ। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে যেন কোনো আলেমের ইজ্জতহানি না করা হয় এবং ব্যক্তিগত ঘৃণা বা বিদ্বেষের আশ্রয় নেয়া না হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বি. এম. মফিজুর রহমান আজহারী। এতে সভাপতিত্ব করেন ড. মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার। অনুষ্ঠানে আলেম-উলামা, গবেষক, শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।