চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের সাথে সংঘর্ষে শিবির কর্মীর পা বিচ্ছিন্ন

Printed Edition
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষকালে ধারালো অস্ত্র হাতে দুর্বৃত্তরা : নয়া দিগন্ত
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষকালে ধারালো অস্ত্র হাতে দুর্বৃত্তরা : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতি নিয়ে বিতণ্ডার জেরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নগরের নিউ মার্কেট মোড় ও কলেজ গেট এলাকায় এ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক শিবিরকর্মীর পায়ের গোড়ালি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

জানা গেছে, কলেজের একটি দেয়ালে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ সংবলিত একটি গ্রাফিতি ছিল। গত সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল কর্মী গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে উভয় পক্ষের মধ্যে বিতণ্ডা ও প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়।

সকালের ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৪টায় নিউ মার্কেট মোড়ে প্রতিবাদ সভার ডাক দেয় ছাত্রশিবির। সমাবেশের প্রস্তুতির সময় ছাত্রদলের একটি গ্রুপ হেলমেট পরে ধারালো কিরিচ ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের হাতে উন্মুক্ত দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। এ সময় ছাত্রদলের হামলায় এক শিবিরকর্মীর পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে ধাওয়া দিলে ছাত্রদল কর্মীরা পিছু হটে। উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা ‘নির্বিকার’ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিতে দেখা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজের নিয়মিত ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি ও মাস্টার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় বলেন, ‘ছাত্রদলের নামে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা চাপাতি ও রড নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। একজনের পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।’ রাত ৮টায় পার্কভিউ হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিবির নেতারা জানান, হামলায় তাদের ১০-১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্য দিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আফতাব উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।