- নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিচার শুরু
- জয়-পলকের বিরুদ্ধে নতুন সাক্ষীর পূর্ণাঙ্গ জবানবন্দী
- বহু অপকর্মের মূল হোতা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দু’জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন। একই দিনে ট্রাইব্যুনালে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জনকে হত্যার মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরার আমির কমপ্লেক্সের সামনে কিশোর সানজিদ হোসেন মৃধা হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকসহ আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন সাক্ষী হিসেবে নিহতের বাবার পূর্ণাঙ্গ ও লোমহর্ষক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন ধার্য ও অন্যান্য কার্যধারা পরিচালনা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রামপুরা মামলার রায় ২৮ জুন
ট্রাইব্যুনারে গতকাল সোমাবার রামপুরা মামলার দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। শুনানিতে আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন দাবি করেন, এ ঘটনার সাথে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম পাঁচ আসামির সবার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান।
এ মামলার আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে একমাত্র গ্রেফতার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। বাকি চার আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো: রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো: মশিউর রহমান এবং থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এর আগে গত ১০ জুন চঞ্চল চন্দ্র সরকার পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন এবং তার বক্তব্যে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি তিনি প্রথম দফায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার কথা থাকলেও নতুন ডিজিটাল আলামত উপস্থাপনের জন্য প্রসিকিউশনের আবেদনের পর তা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে প্রথম সাক্ষী আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়। মামলাটিতে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়েছিল। এর আগে ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে।
নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম এই সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন।
সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে ধানমন্ডিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ শহীদ হয়। সেদিন (২০২৪ সালের ১৮ জুলাই) ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা এমনভাবে গুলি করছিল যে পুলিশ সদস্যরাও এভাবে গুলি করে না। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের কাছে এত গুলি কিভাবে আসল?’
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেফতার আছেন। তারা হলেন- সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো: সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী। নানক, তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দফতরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরো রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক মো: তোফায়েল সিদ্দিক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইসমাইল হোসেন, আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ ও ৩২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান-নুর-ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) মো: মাসুদুর রহমান বিপ্লব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ হৃদয়, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইমান ওয়াসেক, ধানমন্ডি থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহাদ হোসেন সোহাগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: সেন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আক্রমণকারী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জহির উদ্দিন আহম্মেদ, অস্ত্রধারী ‘হেলমেট বাহিনীর সদস্য’ মো: ইউনুছ এবং সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদের সহযোগী মো: রুবেল হোসেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনকারী ফারহান ফাইয়াজ, মো: মাহিন মিয়া ও মো: রনিকে হত্যা এবং পরদিন ১৯ জুলাই আল শাহরিয়ার হোসেন, মো: রাজু আহমেদ, মাহামুদুর রহমান সৈকত, মো: ইসমাইল, মো: জসিম উদ্দিন ও জোবায়েদ হোসেন ইমনকে হত্যার ঘটনায় এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
আমার ছেলের লাশের পাশে আরো ৮টি লাশ পড়ে ছিল
একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহ্মেদ পলকসহ আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় নতুন সাক্ষী হিসেবে নিজের পূর্ণাঙ্গ জবানবন্দী প্রদান করেছেন উত্তরার আমির কমপ্লেক্সের সামনে গুলিতে নিহত ১৬ বছরের কিশোর সানজিদ হোসেন মৃধার পিতা মো: কবির হোসেন মৃধা।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে আমি আমার মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে পাই। আমার ছেলেকে মৃত অবস্থায় ফ্লোরে দেখতে পাই। ঐ হাসপাতালে আমার ছেলের সাথে আরো আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় ছিল।’
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনা-১-এ এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে দেয়া পূর্ণাঙ্গ জবানবন্দীতে পেশায় রংমিস্ত্রি, ৪৫ বছর বয়সী মো: কবির হোসেন মৃধা জানান, ঘটনার সময় তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা (৫০ নং ওয়ার্ড, বাসা নং ১০৬ টেকবাড়ী) এলাকায় থাকতেন। দুই সন্তানের জনক কবির হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি বনানীতে নিজের কর্মস্থলে চলে আসেন। দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে তার মেয়ে, জামাতা এবং ছোট ছেলে সানজিদ হোসেন মৃধা (১৬) বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য উত্তরা বিএনএস এলাকায় যায়।
সেখানে অবস্থানকালে গুলির আওয়াজ শুনে তারা একেকজন একেক দিকে দৌড় দেয়। সানজিদ দৌড়ে আমির কমপ্লেক্সের সামনে গেলে ওপর থেকে আসা একটি গুলি তার গলার সামনের দিকের বাম পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাধারণ জনগণ তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়।
জবানবন্দীতে তিনি আরো বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও ফোনে সানজিদকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে জানান যে, সানজিদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি আছে। বনানী থেকে রওনা হয়ে আনুমানিক রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছান কবির হোসেন। সেখানে তিনি ছেলের লাশসহ আরো আটটি গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পান। তখন ডাক্তাররা বাইরে প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেই দ্রুত লাশ নিয়ে যেতে বলেন, কারণ সেখানে লাশ রাখা যাবে না।
আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় নিহতের বাবা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন, পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুলিতেই তার ছেলেসহ অন্য আটজন মারা যান। তৎকালীন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের বাইরেও গুলি করছিল এবং ভেতরে এসে ভাঙচুর চালিয়েছিল, যেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের কোনো চিকিৎসা দিতে না পারে। ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার পর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুলিতে উত্তরা এলাকায় আনুমানিক ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন বলেও জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন তিনি।
কবির হোসেন মৃধা ট্রাইব্যুনালকে জানান, রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ বের করে দেয়ার পর একটি রিকশায় করে তিনি ছেলের লাশ নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে বিভিন্ন জায়গায় বাধা পান এবং তৎকালীন গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীরের নির্দেশে তার অনুসারীরা রড দিয়ে তাকে ও রিকশাচালককে মারধর করে। এমনকি টঙ্গী এরশাদনগর সরকারি কবরস্থানে লাশ দাফন করার সময়ও জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা বাধা দেয়। পরে তাদের হাতে-পায়ে ধরে অনেক অনুরোধ করে ছেলের দাফন সম্পন্ন করেন তিনি।
জবানবন্দীর শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনায়েদ আহম্মেদ পলকের বিচার চাই। কারণ তারা ইন্টারনেট বন্ধ না করলে আমি সঠিক সময়ে আমার ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারতাম এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারতাম।’ এই ঘটনার সাথে জড়িত সবার বিচার চান তিনি। তদন্তকারী কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ট্রাইব্যুনালে তার এই পূর্ণাঙ্গ জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।
বহু অপকর্মের মূল হোতা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
একই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া তিনটি অবৈধ ও বিতর্কিত নির্বাচনের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। বাংলাদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে এবং ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে তিনি অত্যন্ত বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি কেবল নির্বাচনের কারিগরই ছিলেন না, বরং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার অন্যতম মূল কুশীলব ও মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। র্যাবের প্রধান এবং আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং দমনপীড়নের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
কর্মজীবনে হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই যা তিনি করেননি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তার এসব বিপুল দুর্নীতি ও কুকীর্তি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গুম ও খুনসহ প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে এবং ট্রাইব্যুনাল তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুরো বিষয়টিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে।



