ক্রীড়া ডেস্ক
নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ। আর স্বাগতিক হিসেবে স্বপ্নের মতো যেন শুরুটা করল যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর পেছনে তাকাতে হয়নি দলটিকে। আক্রমণাত্মক আর গতিময় ফুটবলে প্রথমার্ধে আরো দুইবার জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় সহ-আয়োজকরা। দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ে কিছুটা লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত সহজ জয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল মওরিসিও পচেত্তিনোর দল। ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে গতকাল সকালে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোল উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জোড়া গোল করেছেন ইংল্যান্ড ও নাইজেরিয়া জাতীয় হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করা ফোলারিন বালোগুন, একটি জিওভান্নি রেইনা আর অপর গোলটি এসেছে আত্মঘাতি থেকে (দামিয়ান বোবাদিল্লা)। প্যারাগুয়ের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মাওরিসিও।
ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে গত পরশু ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ম্যাচের ৭ মিনিটে দামিয়ান বোবাদিল্লার আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় আসরের সহ-আয়োজকরা। পায়ের দারুণ কারিকুরিতে তিন জনকে এড়িয়ে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক খুঁজে নেন ওয়েস্টন ম্যাককনিকে। তার নেয়া শট ছুটে এসে প্যারাগুয়ে মিডফিল্ডার বোবাদিয়ার পায়ে লেগে দিক পাল্টে জড়ালে ১-০ তে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্যারাগুয়ের রক্ষণে প্রবল চাপ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। পুলিসিক, ম্যাককেনিদের কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা লাতিন আমেরিকার দেশটি। ২৮ মিনিটে প্যারাগুয়ের জালে বল বালোগুন বল পাঠালেও অফসাইডের জন্য তা বাতিল করেন সাইড রেফারি। এরপরও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। ৩১ মিনিটে পুলিসিকের নিখুঁত ক্রসে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে জাল খুঁজে নেন বালোগুন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে নিজেদের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন মোনাকোর এই ফরোয়ার্ড।
মালিক টিলমানের রক্ষণ চেরা পাস থেকে বল পেয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে ঠাণ্ডার মাথার বাঁকানো শটে খুঁজে জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এ নিয়ে দেশের হয়ে ১১তম গোল হলো বালোগুনের। তিনটি দেশের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ ছিল বালোগুনের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জার্সি গায়ে তোলার পর অভিষেক ম্যাচে জোড়া গোলে ইতিহাসে নাম লেখালেন বালোগুন।
দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামেননি পুলিসিক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলে অবদান রাখা এসি মিলানের এই ফরোয়ার্ড প্রতিপক্ষের একজনের লাথির আঘাতে বাঁ পায়ের পেশিতে চোট পান। তাতেও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের ধার খুব একটা কমেনি। সুযোগ তৈরি করতে থাকে স্বাগতিকরা। তবে খেলার ধারার বিপরীতে ৭৩ মিনিটে ব্যবধান কমায় প্যারাগুয়ে। জুলিও এন্সিসকোর কাছ থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন মাওরিসিও।
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে বল পায়ে ডি বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন রেইনা।
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া ব্যবধানে জয়ের দিনে চমৎকার পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে চোট পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। তবে এ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন তিনি। এই মিডফিল্ডারের কাছে সমস্যা গুরুতর কিছু মনে হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে সামান্য আঘাত পেয়েছিলাম। আশা করছি, এটা গুরুতর কিছু নয়। আজকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাব বলে আশা করছি।’
প্যারাগুয়েকে হারিয়ে দলের কোচ পচেত্তিনো বললেন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয় বরং দলীয় একতার কারণেই এই সাফল্য এসেছে।
তিনি বলেন, ‘এটা ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সমর্থকরা অসাধারণ ছিল, সত্যিই অসাধারণ। তারা যদি এভাবে পাশে থাকে, তাহলে আমরা দারুণ কিছু করতে পারি।’
১৯৩০ আসরের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়েছিল প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপের প্রথম আসরে বার্ট প্যাটেনডের হ্যাটট্রিকের সুবাদে ৩-০ গোলে জিতেছিল উত্তর আমেরিকার দেশটি। ১৯৩০ আসরের পর দ্বিতীয় দেখাতেও পরাজয়ের মুখ দেখল প্যারাগুয়ে। প্রথম বিশ্ব আসরের মতো কোনো ম্যাচে একাধিক গোল পেলেন দেশটির কোনো ফুটবলারও।



