নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, চব্বিশের বিপ্লব এক মাস বা এক বছরে সংঘটিত হয়নি; বরং দীর্ঘ এক যুগের লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাধনার ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে। চব্বিশের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে।
গতকাল জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব প্রাঙ্গণে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পল্টন জোন আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা সালেহ উদ্দীন কাজীর সভাপতিত্বে ও যুবনেতা মাহদি হাসান সিকদারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ রাকীবুল ইসলাম, যুব মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
এ ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মাওলানা আতিকুল্লাহ, মাওলানা ইমদাদ আশরাফ, সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা রিজওয়ান হুসাইন, মাওলানা ইমদাদ বিন ছায়েনুদ্দীন, মুহাম্মদ জাবেদ হুসাইন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফেজ দিলাওয়ার হুসাইন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাগর এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের অফিস সম্পাদক এইচ এম খোকনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মামুনুল হক আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ জনগণের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করুন। কিন্তু মনে রাখবেন যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণকে সম্মান ও মর্যাদা দিতে না পারবেন, ততক্ষণ শুধু এই কার্ডগুলো দিয়ে সম্মান পুনরুদ্ধার হবে না। বিরোধী দলের জায়গা থেকে সরকারকে জানাতে চাই শেখ হাসিনা মার্কা ‘উন্নয়নের’ বুলি এ দেশের মানুষকে আর শোনাবার চেষ্টা করবেন না। আলেম সমাজ রক্ত দিয়ে এ দেশের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আন্দোলন এবং দীর্ঘ কারাবরণের পথ পেরিয়েই জুলাই এসেছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ সইয়ের আগ মুহূর্তে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশের মাধ্যমে অন্তহীন প্রতারণা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যখন সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে সইয়ের জন্য একত্রিত হয়, তখন সবার অগোচরে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। যেখানে বলা হয়, নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা দল তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে। বিষয়টি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জুলাই যোদ্ধা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল অবগত ছিল না।
সংসদে মামুনুল হককে কটূক্তির প্রতিবাদে
খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিক্ষোভ
জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস। সেই সাথে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা সংগঠনটির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে ঢাকা-১ আসনের এমপির মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে গিয়ে স্পিকার অশালীন মন্তব্য করেছেন। যে মামলায় তাকে বেকসুর খালাস করে দেয়া হয়েছিল, সেই ঘটনা টেনে এনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এমনভাবে চলতে থাকলে আপনাদের পরিণতি পতিত স্বৈরাচারের মতো হবে। অনতিবিলম্বে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আজকের বিএনপি ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে গেছে। বিরোধী মতকে সহ্য করতে না পেরে আল্লামা মামুনুল হকের চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। প্রকাশ্যে ওই বক্তব্যের ক্ষমা না চাইলে আগামীতে কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি আসবে। সভাপতির বক্তব্যে মহানগর পূর্বের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদে ঢাকা-১ আসনের এমপি আবু আশফাক এবং স্পিকার যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যখন দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতিতে সয়লাব জাতীয় সমস্যা সমাধানের কথা না বলে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ আলোচনা হয় তা আমাদের জন্য দুঃখের বিষয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদে স্পিকার ও সরকার দলের এমপি মামুনুল হককে নিয়ে অত্যন্ত অজ্ঞতাপ্রসূত, ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। অনতিবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারে করতে হবে।
বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড় দিয়ে পূর্ব গেটে শেষ হয়। এ সময় মিছিল থেকে আল্লামা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে এবং জড়িতদের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।



