মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজে স্থাপিত শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব (বর্তমান আইসিটিডি) দীর্ঘদিন ধরে অচল বা আংশিক সচল অবস্থায় রয়েছে। বেশির ভাগ ল্যাব তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আইসিটি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সাথে সরকারি অর্থে সরবরাহ করা ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম অযতেœ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দু’টি মাদরাসা ও একটি কলেজে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়। এসব ল্যাবে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ওয়েবক্যাম, এলইডি টিভি, রাউটার, ট্যাব ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানে সেগুলোর বেশির ভাগই অকেজো হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইন্দুরিয়া উচ্চবিদ্যালয়, নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চবিদ্যালয়, লুধুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়, নীলনগর উচ্চবিদ্যালয় ও আলী আহাম্মদ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপ নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক ল্যাব দীর্ঘ সময় তালাবদ্ধ থাকায় সরঞ্জামে ধুলাবালি জমে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফারুকুল ইসলাম বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের ১১টি ল্যাপটপের মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণ অকেজো। বাকিগুলো ব্যাটারির সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদ জানান, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ ল্যাপটপ নষ্ট। ফলে মাঝে মধ্যে শুধু প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস নেয়া হয়। লুধুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন, কিছু ল্যাপটপ নিজস্ব অর্থায়নে মেরামত করে সীমিত পরিসরে ল্যাব পরিচালনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আইসিটি ক্লাস অনিয়মিতভাবে হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তারা পান না।
উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো: শাহজাহান বলেন, ল্যাব স্থাপনের সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই নিজস্ব অর্থায়নে করার কথা। নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মতলব উত্তর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইসিটি শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিয়ে দ্রুত সভা করা হবে। ল্যাব সচল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে এবং অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



